বিজ্ঞাপন

পাওনা টাকা না পেয়ে কিশোরকে হত্যা: ঘাতকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

পাওনা টাকা ফেরত না দেওয়ায় নেত্রকোনায় জাকির হোসেন (১৭) নামে এক কিশোরকে নির্মমভাবে হত্যা করে লাশ বিলে গুম করার দায়ে মো. জনী (৩১) নামের এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরের দিকে নেত্রকোনার দায়রা জজ মোছা. মরিয়ম-মুন-মুঞ্জুরী এ রায় ঘোষণা করেন।

মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১৫ই অক্টোবর ভুক্তভোগী জাকির হোসেন মদন থানাধীন হাসনপুর গ্রামে তার আত্মীয় খোকনের বাড়িতে বেড়াতে যায়। পরদিন ১৬ই অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে সেখান থেকে বাড়ির উদ্দেশে টেম্পুযোগে রওনা দিয়ে সে নিখোঁজ হয়। পরিবারের লোকজন অনেক খোঁজাখুঁজির পর ১৭ই অক্টোবর সকাল ১১টার দিকে রাজুর বাজার এলাকার জনৈক ইদ্রিসের ব্রয়লারের পেছনের বিলের পানিতে ভাসমান অবস্থায় তার লাশ শনাক্ত করেন নিহতের পিতা। উদ্ধারের সময় নিহতের গলায় পুরাতন নাইলনের রশি পেঁচানো ছিল।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. মঞ্জু মিয়া বাদী হয়ে ১৮ই অক্টোবর নেত্রকোনা মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশি তদন্তে সদর উপজেলার রাজুর বাজার এলাকার মো. বাবুল মিয়ার ছেলে মো. জনীকে গ্রেফতার করা হয়। পরে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জনী জানায়, তার কাছ থেকে ধার নেওয়া টাকা ফেরত না দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে সে জাকিরকে খুন করে এবং লাশ পানিতে ফেলে দেয়।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে ১০ জন সাক্ষীকে উপস্থাপন করে। সাক্ষ্যপ্রমাণ ও যুক্তিতর্ক শেষে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের রায় প্রদান করেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন পাবলিক প্রসিকিউটর জনাব আবুল হাসেম এবং আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট পূরবী কুণ্ডু।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : আটোয়ারিতে জমি দখলে নিতে তৈরী করা হয় অস্থায়ী মন্দির, ভিন্নখাতে নিতে ভাংচুর

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন