বরগুনার পর্যটন কেন্দ্র শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকতে গোসল করতে নেমে মোঃ আসাদুল (১৬) নামে এক পর্যটক নিখোঁজের তিনদিন পর, তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিম্নচাপের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় অতিরিক্ত পানির স্রোতে ভেসে গিয়ে সাগরে ডুবে ওই পর্যটক নিখোঁজ হয়েছিলেন। তালতলী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ সাইদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তালতলী উপজেলার পর্যটন কেন্দ্র শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকতের প্রায় এক কিলোমিটার দূরে নিদ্রার চর সংলগ্ন এলাকা থেকে নিখোঁজ ওই পর্যটকের মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরের দিকে আমতলী উপজেলার মানিকঝুড়ি নামক এলাকার বাসিন্দা প্রবাসী মোঃ মুসার ছেলে আসাদুলসহ সমবয়সী ৪ জন একসঙ্গে শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকতে ঘুরতে আসেন। পরে তারা সৈকতে নেমে ঘোরাঘুরি করে গোসলের জন্য সমুদ্রে নামেন। তবে গত কয়েকদিন ধরে নিম্নচাপের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় ওই সময় আসাদুলসহ অন্যরা প্রবল স্রোতের ঢেউয়ে সাগরে ভেসে যায়। পরে বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় ৪ জনকে উদ্ধার করা গেলেও আসাদুলকে উদ্ধার করা যায়নি। এরপর স্থানীয়রা বিষয়টি পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে জানালে স্থানীয়দের সহায়তায় নিখোঁজ আসাদুলকে উদ্ধার করতে অভিযান শুরু করেন ফায়ার সার্ভিস ও নৌ পুলিশের সদস্যরা। পরে দীর্ঘ সময় ধরে পটুয়াখালী ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের সদস্যরাও ঘটনাস্থলে এসে সাগরের বিভিন্ন এলাকায় খোঁজাখুঁজি করলেও আসাদুলের কোনো সন্ধান মেলেনি।
পরবর্তীতে এ ঘটনার তিনদিন পর শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকত থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার দূরে নিদ্রার চর সংলগ্ন এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা একটি মরদেহ দেখতে পান। বিষয়টি তালতলী থানা পুলিশ ও নৌ পুলিশকে জানালে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ সময় উপস্থিত স্বজনরা মরদেহ এবং গায়ে থাকা গেঞ্জি দেখে নিখোঁজ পর্যটক আসাদুলকে শনাক্ত করেন।
এ বিষয়ে তালতলী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ সাইদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করেছেন। মরদেহ এবং গায়ে থাকা গেঞ্জি দেখে নিখোঁজ আসাদুলকে শনাক্ত করেছে উপস্থিত স্বজনরা। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
পড়ুন : ৫টি নদীর পানি বিপৎসীমার উপরে: বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র
সা/


