মাদারীপুর সদর মডেল থানার অস্থায়ী কার্যালয়ের বারান্দার গ্রিল ভেঙে পুলিশ হেফাজত থেকে এক নারী আসামি পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে শুক্রবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যার দিকে ডিউটি অফিসারসহ দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে বারোটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পালিয়ে যাওয়া নারী আসামি হাসিনা বেগম (৩৫) মাদারীপুর পৌরসভার থানতলী এলাকার হবি হাওলাদারের মেয়ে এবং সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের কালাইমারা এলাকার আল-আমিনের স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বৃহস্পতিবার রাতে সদর মডেল থানার ইটেরপুল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মোকসেদুর রহমান হাসিনা বেগমকে আটক করেন। পরে তাকে সদর মডেল থানায় নেওয়া হয়।থানার মূল ভবন নির্মাণাধীন থাকায় বর্তমানে ওসির সরকারি বাসভবনের নিচতলায় অস্থায়ীভাবে থানার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সেখানে হাজতখানা না থাকায় বারান্দার একটি কক্ষে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছিল হাসিনাকে। রাত সাড়ে ১২টার দিকে সুযোগ বুঝে তিনি কক্ষের গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান।
শুক্রবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে জেলার পুলিশ সুপার দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক ও ওই রাতের ডিউটি অফিসার রমজান আলী সজল ও নারী কনস্টেবল ফাতেমা দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করেন। এ ঘটনায় শুক্রবার দুপুরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও সদর সার্কেল) ফারিহা রফিক ভাবনাকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, থানার অস্থায়ী কার্যালয়ের বারান্দায় ওই আসামিকে রাখা হয়েছিল। সেখানকার গ্রিল ভেঙে তিনি পালিয়ে যান। ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে ডিউটি অফিসার ও সংশ্লিষ্ট সেন্ট্রিকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি পালিয়ে যাওয়া আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পড়ুন : শিকারমঙ্গল ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীতা ঘোষণা ইজাজুল হক ইজাজের


