বিজ্ঞাপন

রিসার্চ পেপার লেখার ‘কপি মেশিন’ যেন না হয় চ্যাটজিপিটি: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক বলেছেন, যুগ পরিবর্তন হয়েছে, অনেক কিছু পাল্টে গেছে। আজকে এআই যুগ এসেছে। এই এআই যুগকে সুন্দরভাবে ব্যবহার করতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, চ্যাটজিপিটি যেন আমাদের রিসার্চ পেপার লেখার জন্য কপি মেশিন না হয়। এখান থেকে আমাদের ক্রিয়েটিভ এডুকেশনকে বের করে নিয়ে আসতে হবে।

গণ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আজ সাভারে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পিএইচএ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।

তিনি বলেন, “মেধার কোনো ব্যারিয়ার (নির্দিষ্ট গণ্ডি) নেই। মেধার কোনো ভিসা নেই। মেধা হচ্ছে গ্লোবাল সিটিজেন। এটা বুঝতে হবে। মেধার চর্চা করে উন্নয়ন করতে হবে। শিক্ষক হচ্ছেন সহায়ক। তাঁরা সাহায্য করবেন, কিন্তু শিক্ষার্থীদের বলতে হবে—’স্যার, আমি জানতে চাই, আমি পড়তে চাই।’ শিক্ষককেও শিক্ষার্থী-বান্ধব হতে হবে।”

“একটি জাতিকে ধ্বংস করতে হলে কোনো নিউক্লিয়ার বোমার দরকার হয় না। শুধু দরকার হয় শিক্ষা খাতটিকে ধ্বংস করে দেওয়া।”

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বাধীনতার চেতনায় গণমানুষের জন্য ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী গণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, “জাফরুল্লাহ সাহেব আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তাঁর স্মৃতি রয়েছে। তিনি গণবিশ্ববিদ্যালয় জনগণের জন্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং এখনো একইভাবে চলছে।”

জাফরুল্লাহ চৌধুরী গণমানুষের জন্য যে ধারণা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, ইংল্যান্ড বা অন্যান্য দেশ সেই ধারণা ধরে রাখেনি; বরং তারা এটিকে ব্যবসা হিসেবে দেখে বলে মন্তব্য করেন শিক্ষামন্ত্রী।

তিনি বলেন, “আমরা চাই বাংলাদেশকে শিক্ষা খাতে আন্তর্জাতিকভাবে একটি কেন্দ্র (হাব) হিসেবে গড়ে তুলতে। খুব সম্প্রতি আমি যুক্তরাজ্যে গিয়েছিলাম। সেখানে আন্তর্জাতিক শিক্ষা ফোরামে ১৫০টিরও বেশি দেশের মন্ত্রীরা অংশ নিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে দেখলাম, আমাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পরে বুঝতে পারলাম, শিক্ষা একটি বাণিজ্যিক পণ্য। ইংল্যান্ড বা অন্যান্য দেশ এখন আর সেই ধারণা রাখে না। তারা মনে করে, এটি শত কোটি (বিলিয়ন) ডলারের ব্যবসা। বাংলাদেশেও তাদের বিশাল ব্যবসা রয়েছে।”

জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে রূপান্তরিত করতে কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব দিতে হবে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক।

মন্ত্রী বলেন, “সকলকেই নিউরোসায়েন্টিস্ট বানানো যাবে না, সকলকেই প্রফেসর বানানো যাবে না, সকলকেই ডাক্তার বানানো যাবে না। একই সঙ্গে কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব দিতেই হবে। শুধুমাত্র এ বছরই কারিগরি শিক্ষার জন্য বাজেটে অতিরিক্ত ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।”

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আবুল হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) আসনের সংসদ সদস্য দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু এবং ঢাকা-২০ (ধামরাই) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মো. তমিজ উদ্দিন।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন স্বাস্থ্যবিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. ফুয়াদ হোসেন।

এর আগে দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে ক্যাম্পাসে একটি আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পিএইচএ ভবনের সামনে এসে শেষ হয়। পরে মিলনায়তনে কেক কেটে দিবসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে অস্বচ্ছল ও মেধাবী ১৪২ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : কালিয়াকৈরে করুণী ফ্যাশনসের গার্মেন্টস শাখায় অনির্দিষ্টকালের জন্য উৎপাদন বন্ধ

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন