ব্রাজিলকে বিদায় করে ইতিহাসে প্রথমবার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল নরওয়ে। ম্যাচটিতে এক গোল করা আর্লিং হালান্ড আজ (রোববার) কোয়ার্টারে একেবারে নিষ্প্রভ ছিলেন। উল্টো তার অপ্রয়োজনীয় এক ফাউলের কারণে গোল বাতিল হয় নরওয়ের। জুড বেলিংহ্যাম জোড়া গোলে ২-১ গোলে জিতে ইংল্যান্ড সেমিফাইনালে পা রেখেছে।
মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে শুরু থেকেই ইংলিশরা নরওয়েকে চেপে ধরলেও, প্রথমে গোলের খাতা খোলে হালান্ডের দল। তবে তাদের লিড টিকেছে কেবল ১১ মিনিট। বিরতির আগমুহূর্তে ইংলিশরা সমতায় ফেরার পর নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষেও স্কোরলাইন ১-১ অক্ষুণ্ন ছিল। ফলে খেলা গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে। ৯৩ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে বেলিংহ্যাম ইংল্যান্ডের জয় নিশ্চিত করেন।
ম্যাচের প্রথমার্ধে অবশ্য বল দখলে বেশ পিছিয়েই ছিল নরওয়ে। তবে বিরতির পর তার ধীরে ধীরে পজেশন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে থাকে। শেষ পর্যন্ত ৫২ শতাংশ পজেশন রেখে ১৩টি শট নেয় প্রথমবার বিশ্বকাপের কোয়ার্টারে ওঠা স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশটি। বিপরীতে ১৪ শটের ৮টিই লক্ষ্যে ছিল ইংলিশদের।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচটি রূপ নেয় স্নায়ুযুদ্ধের লড়াইয়ে। নরওয়ে একের পর এক আক্রমণ শানিয়ে ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগকে চেপে ধরলেও, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অটল ছিল টমাস টুখেলের শিষ্যরা। ৫৭ মিনিটে টরবইয়র্ন হেগেমের গোলে ফের এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় নরওয়ে, কিন্তু কর্নার থেকে বল আসার সময় ইংল্যান্ডের এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে জোরে ধাক্কা দেন আর্লিং হলান্ড। সেই ফাউলের কারণেই মনিটরে দেখে গোলটি বাতিল করেন রেফারি।
এরপর ৭৫ মিনিটে ক্রসবারের কল্যাণে বেঁচে যাওয়ার মতো নাটকীয় ঘটনাগুলো ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বারবার হাতবদল করেছে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে দুই দলের কেউই গোল করতে না পারায় ম্যাচের চূড়ান্ত ভাগ্য নির্ধারিত হয় অতিরিক্ত সময়ে। ৯৩ মিনিটে মরগান রজার্সের শট নরওয়ের গোলরক্ষক নিলান্ড হাত ফসকে ছেড়ে দিলে, সেই সুযোগটিই কাজে লাগান বেলিংহাম। তার এই দ্বিতীয় গোলটি শুধু ব্যবধানই গড়ে দেয়নি, বরং ইংল্যান্ডকে এনে দেয় এক দারুণ প্রত্যাবর্তনের জয়।
পরাজয়ের দ্বারপ্রান্ত থেকে বেলিংহামের জোড়া গোলে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করা ইংল্যান্ড এখন শিরোপার দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা–সুইজারল্যান্ড ম্যাচের জয়ী দল। তবে মায়ামির এই জয় শুধু একটি ম্যাচ জয়ের গল্প নয়, বরং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নিজেকে ফিরে পাওয়ার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে ফুটবল ইতিহাসে। অন্যদিকে, ৭২ বছর পর কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা আর্লিং হালান্ডের নরওয়ের স্বপ্নভঙ্গ হলো ইংল্যান্ডের এই অদম্য প্রত্যাবর্তনের কাছেই।


