সততা নিষ্ঠা এবং খাঁটি দেশপ্রেমের কারণে উচ্চ শিখরে শোক শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় স্মরণ করলেন ছোট বেলা থেকেই জয়ী হওয়ার চেষ্টা আর সাহস ছিলেন তার মধ্যে তাই সততা নিষ্ঠা এবং খাঁটি দেশপ্রেমের কারণে তিনি হয়ে উঠেছেন উচ্চ শিখরে। যমুনা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্বরণসভা দোয়া-মিলাদ ও মোনাজাত অনুষ্ঠানে কথাগুলো বলছিলেন তার বাল্যকালের স্কুল বন্ধু আনোয়ার মোড়ল।
সোমবার ১৩ জুলাই দুপুরে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বর্ধনপাড়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকীতে এক স্বরণসভার আয়োজন করেন তার শুভাকাক্সক্ষীরা।
একই দিন দোহার নবাবগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জের প্রায় সব এতিমখানা ও মাদ্রাসায় নুরুল ইসলামের স্বরণে দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। এসময় মরহুমের কবর জিয়ারত, স্মরণসভা, মিলাদ ও দোয়া এবং হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসায় স্মরণ করা হয় দেশের শিল্প খাতের অগ্রদূত, সফল স্বপ্নসারথি এই আপসহীন উদ্যোক্তাকে।
স্বরণসভায় আনোয়ার মোড়ল নামে তার এক বাল্য কালের বন্ধু বলেন, আমরা একসাথে নবাবগঞ্জ উপজেলার চূড়াইন তারিণী বামা উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়া-লেখা করেছি। নুরুল ইসলাম বাবুল কখনোই পরাজয়কে মেনে নিতে পারেনি। একবার স্কুলে হা ডু ডু খেলার আয়োজন করেছিলো স্কুল কর্তৃপক্ষ। তখন নুরুল ইসলাম সেই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছিলো এবং প্রথম রাউন্ডে হেরে প্রচন্ড সাাহস আর শক্তি খাঁটিয়ে পরর্বতী দুই রাউন্ড জিতে চ্যাম্পিয়ন হন এবং আমাকে বলে আনোয়ার জীবনে উচ্চ শিখরে উঠতে হলে সততা ও সাহসী হতে হবে। অন্যথায় পিছিয়ে পড়তে হবে। সেই সাথে তার মধ্যে ছিলো গভীর দেশপ্রেম। নিজের একক চেষ্টায় তিলে তিলে গড়ে তুলেছিলেন তার শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো। শেষ বয়সেও অক্লান্ত পরিশ্রম করতেন তিনি।
কান্নাজড়িত কন্ঠে তিনি আরও বলেন, নুরুল ইসলাম শুধু এই দোহার-নবাবগঞ্জের সম্পদ ছিলেন না তিনি ছিলেন দেশের এক সাহসী যোদ্ধা তাকে হারিয়ে আজ আমরা এতিম।
স্থানীয় টিপু মিয়া, খলীলুর রহমান, এমএ মজিদ ও আয়নাল চৌধুরী বলেন, যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম ছিলেন দেশের শিল্প খাতের একজন অনন্য এবং সফল উদ্যোক্তা। যেখানে হাত দিয়েছেন সেখানে ফলিয়েছেন সোনা। এক পা, দুই পা ফেলে এগিয়েছেন অনেকদূর। গড়েছেন বহু শিল্পপ্রতিষ্ঠান। সৃষ্টি করেছেন লাখো মানুষের কর্মসংস্থান। অনেক উদ্যোক্তাকে দেখেছি ট্রেড বেজড ব্যবসা করতে। শিল্পে যেতে চাইতেন না। এ ক্ষেত্রে নুরুল ইসলাম ছিলেন ব্যতিক্রম। তিনি ট্রেড নয়, সরাসরি শিল্পে প্রবেশ করেছেন। এতে দেশে অনেক কর্মসংস্থান হয়েছে। এসব উদ্যোগ সফল করতে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ নিয়েছেন তিনি। কিন্তু কখনো এক টাকা ঋণখেলাপি ছিলেন না। এমনকি মৃত্যুকালে তিনি এক টাকা ওভারডিউ পর্যন্ত রেখে যাননি। অথচ তার থেকে অনেক ছোট উদ্যোক্তা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে আর ফেরত দেননি। সে কারণে আজ বিপুল অঙ্কের খেলাপি ঋণে ডুবতে বসেছে ব্যাংকিং খাত।
নুরুল ইসলাম শুধু নিজে খেলাপিমুক্ত ছিলেন ব্যাপারটা এমন নয়। তিনি একাধারে দুর্নীতি, অর্থ পাচার ও খেলাপি ঋণের ঘোরতর বিরোধী ছিলেন। কখনো কোনো দুর্নীতিবাজের সঙ্গে সমঝোতা করেননি। ছিলেন আপসহীন। তার সৃষ্টি দৈনিক যুগান্তর সাহসী কলম এবং যমুনা টিভি সাহসী কণ্ঠ হয়ে সব সময় দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার রয়েছে। সাধারণত পত্রিকার মালিকরা গা বাঁচিয়ে চলেন। কিন্তু নুরুল ইসলাম ছিলেন ব্যতিক্রম। এজন্য তাকে অনেক মূল্যও দিতে হয়েছে। সব সময় চাপে থাকতেন।
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের আজকে এইদিনে ১৩ জুলাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে নুরুল ইসলাম ইন্তেকাল করেন। পরের দিন ১৪ জুলাই রাষ্ট্রীয় সম্মাননায় বনানীর কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হন আপসহীন এই যোদ্ধা। মৃত্যুর এক মাস আগে ১৪ জুন নুরুল ইসলামের করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। ওইদিনই তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। করোনায় তার কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশিষ্ট এই শিল্পোদ্যোক্তার চিকিৎসায় এভারকেয়ারে ১০ সদস্যবিশিষ্ট মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছিল। এর বাইরে চীনের ৪ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং তারপরও সব চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় তিনি না-ফেরার দেশে পাড়ি জমান।
পড়ুন : মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে নিখোঁজ রাঙ্গাবালীর ট্রলার মাঝি


