টানা তৃতীয়বারের মতো ফাইনাল খেলার সামনে ছিল ফ্রান্স। অন্যদিকে ১৬ বছর পর ফাইনালের হাতছানি ছিল স্পেনের সামনে। অবশেষে ইউরোপের দুই পরাশক্তির লড়াইয়ে জয় পেয়েছে স্পেন। পুরো ম্যাচে দুর্দান্ত খেলা উপহার দিয়ে ১৬ বছর পর ফাইনাল নিশ্চিত করেছে স্পেন। এখন অপেক্ষায় প্রতিপক্ষের। যে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী রোববার (১৯ জুলাই) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায়।
বিশ্বকাপে একরকম অপ্রতিরোধ্য ফুটবল খেলে সেমিফাইনালে ওঠে এসেছিল ফ্রান্স। সেমিতে স্পেনের বিপক্ষে অনেকের ফেবারিটও ছিল দিদিয়ের দেশমের দলটি। কিন্তু টুর্নামেন্টজুড়ে অবিশ্বাস্য ফুটবল খেলা ফ্রান্সকে সেমিফাইনালে আজ খুঁজেই পাওয়া গেল না। দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখানো স্পেনের কাছে ২–০ গোলে হেরে শেষ চার থেকেই বিদায় নিল দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
এদিন ২২ মিনিটে মিকেল ওইয়ারসাবালের পেনাল্টি গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচে ফেরার কোনো পথই বের করতে পারেনি গতবারের রানার্সআপরা। আলোচিত কিলিয়ান এমবাপ্পে–উসমান দেম্বেলে–মাইকেল ওলিসে ত্রয়ীও গড়তে পারলেন না তেমন কোনো পার্থক্য। উল্টো বিরতির পর পেদ্রো পোরো স্পেনের হয়ে গোল করে ফ্রান্সকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয়। বিশ্বকাপজুড়ে দাপুটে খেলে ফ্রান্সের এমন বিদায় দলটির সমর্থকদের জন্য বেশ হতাশাজনকই।
ঘুরে দাঁড়ানোর অপেক্ষায় থাকা ফ্রান্স এখন আরও বড় বিপদে পড়ল। তারা পিছিয়ে গেল ২–০ গোলে। ৫৮ মিনিটে গোলটি করেছেন পেদ্রো পোরো।
গোলটি অনেকটাই নিজের চেষ্টায় তৈরি করেন পোরো। দানি ওলমোর সঙ্গে দ্রুত ওয়ান-টু পাস খেলে বক্সে ঢুকে পড়েন পরো। এরপর দারুণ স্থিরতায় মাইক মাইনিয়ঁকে পরাস্ত করে বল জালে পাঠান তিনি।
ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমেছিল ফ্রান্স। কিন্তু ম্যাচে ফেরার বদলে তাদের বিপদ আরও বাড়িয়ে দিল স্পেন। ৫৮তম মিনিটে পেদ্রো পোরোর গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করে স্প্যানিশরা। ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে ম্যাচে ফেরার পথ আরও কঠিন হয়ে যায় ফরাসিদের।
প্রথমার্ধে মিকেল ওইয়ারসাবালের গোলে এগিয়ে থাকা স্পেন বিরতির পরও আক্রমণাত্মক ফুটবল ধরে রাখে। অন্যদিকে সমতায় ফিরতে মরিয়া ফ্রান্স চেষ্টা চালালেও স্প্যানিশদের ছন্দ থামাতে পারছিল না। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দারুণ এক আক্রমণ থেকে দ্বিতীয় গোলটি তুলে নেয় স্পেন।
গোলটির মূল কারিগর ছিলেন পোরো নিজেই। মাঝমাঠ থেকে আক্রমণে উঠে দানি ওলমোর সঙ্গে দ্রুত ওয়ান-টু পাস খেলেন স্প্যানিশ এই ফুটবলার। ওলমোর সঙ্গে বোঝাপড়ায় ফ্রান্সের রক্ষণ ভেঙে বক্সে ঢুকে পড়েন পোরো।
সামনে তখন ফ্রান্সের গোলরক্ষক মাইক মাইনিয়ঁ। তবে গোলের সুযোগটি কাজে লাগাতে কোনো তাড়াহুড়া করেননি পোরো। দারুণ স্থিরতায় মাইনিয়ঁকে পরাস্ত করে বল জালে পাঠান তিনি। তার নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ৫৮ মিনিটে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্পেন।


