বিজ্ঞাপন

মিঠামইনে বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যা: ঢাকা থেকে আসা ৩ ভাড়াটে খুনি গ্রেপ্তার

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি (পদ স্থগিত) জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরকে (৫৮) ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গত বুধবার (১৫ জুলাই) রাত ৯টার দিকে উপজেলা সদরের কামালপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

বিজ্ঞাপন

হত্যাকাণ্ডের পর পরই রাতেই মিঠামইনের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত তিন পেশাদার খুনিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের নির্দেশে এই হত্যাকাণ্ড ঘটাতে তাদের ঢাকা থেকে ভাড়া করে আনা হয়েছিল।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন হেলাল, মহিউদ্দিন ও জাকির। এর মধ্যে হেলাল বরগুনা জেলার বামনা থানার চালিতাবুনিয়া গ্রামের মৃত সুলতানের ছেলে। বাকি দুজনের বিস্তারিত পরিচয় জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত ৯টার দিকে নিজ বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় তিন দুর্বৃত্ত। তারা ধারালো চাপাতি দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এ সময় জাহাঙ্গীরকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে স্থানীয় বিএনপি নেতা হাদিস মিয়াকেও (৩৮) কুপিয়ে আহত করা হয়।

পরে রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে প্রথমে মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান স্থানীয় বাসিন্দারা। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১১টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত হাদিস মিয়া বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, রাজনৈতিক বিরোধের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। আর এ মিশন সফল করতে ঢাকা থেকে পেশাদার খুনিদের ভাড়া করে এনেছিল প্রতিপক্ষরা।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, প্রাথমিক তদন্তে আমরা জানতে পেরেছি, হামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা ঢাকা থেকে মিঠামইনে এসেছিলেন। হত্যাকাণ্ডে তাদের সরাসরি সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে এবং তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে রাজনৈতিক বিরোধকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করা হলেও, এর পেছনে মূল পরিকল্পনাকারী কারা এবং প্রকৃত কারণ কী, তা নিখুঁতভাবে উদঘাটনে পুলিশের তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

পড়ুন : বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের শহর, ঢাকা ১২ নম্বরে

সা/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন