বিজ্ঞাপন

আর্জেন্টিনার জয় উদযাপনের ভিডিও করতে গিয়ে প্রাণ গেল ছাত্রের

আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয় উদযাপন করতে গিয়ে নেত্রকোনায় আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে রূপ নিয়েছে। ফাইনাল খেলা শেষে সমর্থকদের আনন্দ-উল্লাসের ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ছাদ থেকে নিচে পড়ে দীপ্ত চৌধুরী (২৪) নামের এক কলেজ শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (ঘটনার দিন) দিবাগত রাত আনুমানিক সোয়া ৩টার দিকে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত দীপ্ত চৌধুরী শহরের মালনী রোড এলাকার বাসিন্দা বাদল চৌধুরীর ছেলে। তিনি নেত্রকোনা সরকারি কলেজের সম্মান দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

নিহতের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শী বন্ধুদের সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে বন্ধুদের সঙ্গে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখার জন্য বাসা থেকে বের হন দীপ্ত। খেলা শেষে আর্জেন্টিনা জয়ী হলে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় সমর্থকদের ব্যাপক আনন্দ-উল্লাস চলছিল। সেই মুহূর্তটি নিজের মোবাইলে ধারণ করার জন্য দীপ্ত পার্শ্ববর্তী সিঙ্গার শোরুমের দ্বিতল ভবনের ছাদে ওঠেন।

ছাদে ওঠার পর ভিডিও ধারণের একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত ভবনের পাশ দিয়ে যাওয়া উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে চলে আসেন তিনি। এতে তাৎক্ষণিক বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন দীপ্ত এবং ছিটকে ভবনের নিচে পড়ে যান।

দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শ্রদ্ধানন্দ নাথ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার পর ছাদ থেকে নিচে পড়ে যাওয়ায় দীপ্ত চৌধুরীর শরীরে গুরুতর আঘাত লাগে। হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।

এই শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যুতে তার পরিবার ও বন্ধুদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নেত্রকোনা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীদের মাঝেও গভীর শোক বিরাজ করছে। পরিবার ও স্বজনরা তার এই অকাল প্রস্থানে শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েছেন।

এই ঘটনাটি একইসঙ্গে সচেতন মহলে তীব্র আবেগের পাশাপাশি সতর্কবার্তাও ছড়িয়েছে। উৎসবের আমেজে আনন্দ করতে গিয়ে জীবনের ঝুঁকি না নেওয়ার জন্য এলাকাবাসী আহ্বান জানিয়েছেন।

পড়ুন : মেট্রোরেলের নিরাপত্তায় ৮ দফা জরুরি সুপারিশ

সা/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন