ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে থানার সামনে শাহরিয়ার আলম সোহাগ ও মিশন আলী নামের দুই সাংবাদিকের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাত ৯টা দিকে এ ঘটনা ঘটে। এসময় ঘটনা স্থলে কালীগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে উপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনায় ওই দুই সাংবাদিক কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহত সাংবাদিক শাহরিয়ার আলম সোহাগ দীপ্ত টিভির ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি ও দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার কালীগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি এবং মিশন আলী নাগরিক টিভির ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি।
সাংবাদিক মিশন আলী বলেন, গত তিনদিন শহরের আড়পাড়া এলাকায় মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে মিলন হোসেন নামে এক যুবককে মারধর করে এলাকার অজ্ঞাত কয়েকজন যুবক। এই ঘটনায় শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে আড়পাড়া এলাকার মিঠু ও ইয়াসিন নামের দুই যুবককে তুলে নিয়ে আসে পুলিশ। এরপর রাত সাড়ে আটটার দিকে এলাকাবাসী থানায় আসে পুলিশের সাথে কথা বলার জন্য। এ সময় ওসি তার পেটুয়া বাহিনী জালাল ও শাহীন লষ্করদের ফোন দিয়ে ডেকে আনে। এমন সংবাদ পেয়ে গ্রামের শুক্রবার রাত ৯ টার দিকে সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে কালীগঞ্জ থানার সামনে যায়। সে সময় যুবদল ও কৃষকদলের কয়েকজন নেতা-কর্মী থানায় আসা মহিলাদের ওপর হামলা করে। এই হামলার ভিডিও ধারণ করতে গেলে উপজেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জালাল ভিডিও করতে নিষেধ করেন। বিএনপিদের কোন ভিডিও করা যাবে না বলে সে হুমকি দেয়। এরপর জালাল প্রথমে আমার ওপর হামলা করে। এরপর ইসলামী ব্যাংক কালীগঞ্জ শাখার স্টাফ কমলাপুর গ্রামের হাসান, নদী পাড়ার টিটো এবং ফারাসপুর গ্রামের রবিউল।
এ ব্যাপারে শাহরিয়ার আলম সোহাগ বলেন, আড়পাড়া এলাকা থেকে ওসি মামলা না নেওয়ায় ১৬/২০ জন নারী থানায় আসে। এসময় উপজেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহবায়ক জালালসহ কয়েকজন ওই নারীদের উপর হামলা চালায়। সেই ভিডিও ধারণ করায় সাংবাদিকদের উপরেও হামলা চালায় জালালসহ কয়েকজন। ওসির সামনে সন্ত্রাসী জালাল এই হামলা চালিয়েছে। হামলার পর ওসি তাকে গ্রেফতার না করে সেফ এক্সিট দিয়েছে। ওসি জালাল, শাহীন লস্করসহ কয়েকজনকে ডেকে এনেছে।
তিনি আরো বলেন, ওসির মাদক নিয়ে বাণিজ্য ও আসামির মোবাইল গায়েব নিয়ে যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশ হয়। এই ঘটনায় ওসি পেটুয়া বাহিনী দিয়ে সাংবাদিকদের উপর হামলা চালালো।
পড়ুন : নরসিংদীতে ২ মাসের শিশুর পা মুচড়ে নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত সেই চাচি গ্রেপ্তার


