সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে ভর্তি পরীক্ষা চলাকালীন কলেজের প্রধান ফটকের সামনে এক অতর্কিত মব অ্যাটাক ও নির্বিচার হামলার ঘটনার অভিযোগ উঠেছে ।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের ব্যবসা ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে এই হামলা করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী আওলাদ জিসান।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম এবং ছাত্রদল নেতা অভির নেতৃত্বে আনুমানিক ৮ থেকে ১০ জনের একটি দলবদ্ধ মব এই অতর্কিত হামলায় অংশ নেয়।
তিনি বলেন, “কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই পরীক্ষা কেন্দ্রের মূল ফটকের সামনেই তার ওপর চড়াও হয় হামলাকারীরা।”
ভুক্তভোগী আওলাদ জিসান আরও বলেন, “ভর্তি পরীক্ষার মতো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ফটকের সামনে এ ধরনের সংঘবদ্ধ হামলা চালানো হয়েছে। এটি শুধু আমার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ওপর চরম আঘাতই নয়, বরং ক্যাম্পাসের সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বিনষ্ট করার একটি সুপরিকল্পিত অপচেষ্টা।”
তিনি বলেন, “অবিলম্বে এই মব সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িত ছাত্রদল নেতা তৌহিদুল ও অভিসহ হামলাকারীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।”
এ বিষয়ে সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, তার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। অথচ আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ফেসবুক পেজে ছাত্রদল ও আমাকে জড়িয়ে প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে। ঘটনার সময় আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম। দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির পরিস্থিতি তৈরি হলে আমি তা থামানোর চেষ্টা করি এবং তাদের সরিয়ে দিই। পরবর্তীতে কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বিষয়টির দুই পক্ষের মধ্যে সমাধানের চেষ্টা করেন।
তিনি আরোও বলেন, আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই এ ঘটনার সঙ্গে আমি কোনোভাবেই জড়িত নই।
এ বিষয়ে সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি জসীম উদ্দিন বলেন, গতকাল ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে কলেজের সিনিয়র-জুনিয়রদের মধ্যে একটি বিষয় নিয়ে আমাদের কাছে বিচার আসে। পরে জানতে পারি, ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক তৌহিদ সেখানে উপস্থিতদের সরিয়ে দেন। মূলত একটি অনলাইন ইস্যুকে কেন্দ্র করে সিনিয়র ও জুনিয়রদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়েছিল। বিচারের বিষয়টি আমাদের কাছে আসার পর ওভি এবং ডিবেটিং ক্লাবের জিসানের মধ্যে হওয়া সমস্যা মীমাংসার চেষ্টা করেছি। তবে বারবার ছাত্রদলের নাম জড়ানো হলেও, আমার জানা মতে এ ঘটনায় ছাত্রদলের কোনো নেতা-কর্মী জড়িত ছিলেন না। যদি ছাত্রদলের কেউ থেকে থাকে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে কলেজটির অধ্যক্ষ ড. কাকুলি মুখোপাধ্যায় বলেন, জিসান এসে আমাকে বলেছে এবং আমি দ্রুত নিচে নেমে গিয়ে ছাত্রদলের সভাপতি জসিমকে বলেছি বিষয়টা তাড়াতাড়ি নিষ্পত্তি করো নয়তো বিষয়টি আমি অন্যভাবে দেখব।
কলেজের পক্ষ থেকে আপনারা কোন ব্যবস্থা নিয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমার সাথে জিসানের কথা হয়েছে আমি নিচে নেমে ওদেরকে বকাবকি করেছি। তোমাদের নিজেদের উদ্যোগ এটা নিষ্পত্তি করো না হলে সমস্যা আছে। এটা জিসান (ভিকটিম) কে জিজ্ঞাসা করেন আমি বিচার করেছি কিনা।
পড়ুন: বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে ইয়ামালের প্রশংসায় মেসি
আর/


