আবহাওয়ার পূর্বাভাসে তিন নং সতর্ক বহাল থাকায় সাগর ও নদী উত্তালের কারণে নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় অমাবস্যার অস্বাভাবিক জোয়ারের তোড়ে বেড়িবাঁধ ভেঙে চর ঈশ্বর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত হয়েছে। এতে ভেসে গেছে ঘরের আসবাবপত্র, পুকুরের মাছ, গবাদিপশু ও জমির ফসল। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাতে উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নের তালুকদার গ্রামের পাশের বেড়িবাঁধের একটি অংশ ভেঙে গেলে মুহূর্তেই জোয়ারের পানি আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় ঢুকে পড়ে। এতে চরঈশ্বর ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন গ্রাম পানিতে তলিয়ে যায়। জোয়ারের পানিতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ওই সব এলাকার হাজার হাজার মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও অস্বাভাবিক জোয়ারের কারণে বেড়িবাঁধের বিভিন্ন অংশ দুর্বল হয়ে পড়েছিল। জোয়ারের তীব্র ঢেউয়ের আঘাতে শুক্রবার রাতে তালুকদার গ্রামের পাশের বেড়ীবাঁধ ভেঙ্গে জোয়ারের পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে।
প্লাবিত এলাকার অনেক স্থানে দুই থেকে তিন ফুট উচ্চতায় পানি ওঠায় গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে যায় এবং মানুষের চলাচল ব্যাহত হয়ে পড়ে। বাড়িঘর, উঠান ও নিম্নাঞ্চল পানিতে ডুবে যায়। কৃষিজমি, পুকুর ও মাছের ঘেরেও জোয়ারের পানি ঢুকে পড়েছে। আকস্মিক প্লাবনে অনেক পরিবারের আসবাবপত্র, পুকুরের মাছ ও গবাদিপশুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পানিবন্দি অনেকেই এখন খাটের উপর খাট বসিয়ে রান্না করছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এদিকে বেড়ীবাঁধ ভেঙে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। অনেক পরিবার জরুরি ভিত্তিতে ঘরের মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রাসেল ইকবাল বলেন, ‘চরঈশ্বর ইউনিয়নের এই অংশে বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তাঁরা দ্রুত জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।’
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জামিল উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, ‘ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধের স্থানটি আমরা ইতোমধ্যে পরিদর্শন করেছি। বৈরী আবহাওয়ার কারণে বালুবাহী বার্জ এখনো ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি। তবে জিওটিউব ঘাটে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে আসলেই দ্রুততার সঙ্গে কাজ শুরু করা হবে।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

