চট্টগ্রামের পটিয়ায় নারীদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণে বিদ্যমান সমস্যা, প্রতিবন্ধকতা এবং উত্তরণের উপায় নিয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে পটিয়ার খলিলুর রহমান মহিলা ডিগ্রি কলেজে “নারীদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণে সমস্যা ও প্রতিকার” শীর্ষক এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক। এতে সভাপতিত্ব করেন খলিলুর রহমান মহিলা ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডির সাবেক সভাপতি ও আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসির এভিপি মো. ফোরকান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কলেজের উপাধ্যক্ষ হাসিনা খানম। প্রধান বক্তা ছিলেন অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর মোজাম্মেল হক বলেন, নারীদের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করতে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশও নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের পথে বখাটেদের ইভটিজিং ও হয়রানি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপজেলা পর্যায়ে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা খুবই জরুরী।
সভাপতির বক্তব্যে মো. ফোরকান বলেন, পটিয়ায় সুশিক্ষার প্রসার এবং শিক্ষিত সমাজ গড়ে তুলতে কেডিএস গ্রুপের চেয়ারম্যান আলহাজ খলিলুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। একটি শিক্ষিত জাতি গঠনে নারীদের উচ্চশিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু ইভটিজিং, সামাজিক কুসংস্কার, নিরাপত্তাহীনতা এবং পারিবারিক নানা সীমাবদ্ধতার কারণে এখনও অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে। এসব সমস্যা দূর করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রশাসন ও সমাজের সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, খলিলুর রহমান মহিলা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ সবসময় আন্তরিক। তবে শুধু ক্যাম্পাস নয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের পথেও বখাটেদের উৎপাত বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত নজরদারি জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে একটি কার্যকর টাস্কফোর্স গঠন করা গেলে ছাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা এবং ইভটিজিং প্রতিরোধে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
অধ্যাপক অভিজিৎ বড়ুয়া ও অধ্যাপক ভগীরথ দাশের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন কলেজ গভর্নিং বডির সদস্য অ্যাডভোকেট এ কে এম শাহজাহান উদ্দিন, অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জামাল, প্রধান শিক্ষক শামসুল ইসলাম সিদ্দিকি, মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, শ্যামল দে, এ টি এম তোহা, সুনিল কুমার দে এবং উপজেলার প্রায় ২৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান।
বক্তারা বলেন, নারীদের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করতে নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টি করা সময়ের দাবি। ইভটিজিং ও বখাটেপনা কঠোরভাবে দমন করা গেলে অভিভাবকদের আস্থা বাড়বে এবং মেয়েদের শিক্ষাজীবন আরও এগিয়ে যাবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য মনোবিজ্ঞান বিষয়ক ক্লাস ও কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করলে নানা সামাজিক ও মানসিক সমস্যা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
সভায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। শেষে নারীদের নিরাপদ শিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

