বর্তমান সরকার গণভোট, গণরায় এবং সংস্কারের পিছনে ছুরিকাঘাত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হক।
তিনি বলেন, এই সংস্কার ছিল সকল রাজনৈতিক দলের ঐক্যমত এবং গণঅভ্যুত্থানের প্রধান প্রত্যাশা। সংবিধান সংশোধনী করে সরকার মূলত জনগণের রায়ের সাথে নির্মম তামাশা করেছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের সাহিদ গার্ডেনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (বিকেএম) চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এক ‘নাগরিক সমাবেশে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, তেল-গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ এবং দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বিষয়ে জনমত গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
দুপুর ৩টা থেকে শুরু হয়ে রাত ৮টা পর্যন্ত চলা এই সমাবেশে দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও দলমত নির্বিশেষে স্থানীয় আলেম-ওলামা ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে মামুনুল হক বলেন, আমরা আশা করবো শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার উত্তরসূরী তারেক রহমান সেই ভুল পথে পা বাড়াবেন না। তিনি কোনভাবেই শেখ হাসিনাকে অনুসরণ করবেন না। বরং তিনি বেগম জিয়া ও শহীদ জিয়ার পথ অনুসরণ করে দেশের মানুষের সিদ্ধান্তকে সম্মান ও শ্রদ্ধা জানিয়ে সংবিধান সংস্কারের পথে অগ্রসর হবেন।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী যদি এই চলমান পথ থেকে ফিরে না আসেন তবে আমরাও রুখে দাঁড়াবো।
ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে মামুনুল হক বলেন, ১৯৭০ সালে গণমানুষের ম্যান্ডেটকে উপেক্ষা করায় পশ্চিম পাকিস্তানের স্বৈরাচারদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষ মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। এরপর ২০১৪ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত গণমানুষের রায়কে নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অপরাধে দেশের মানুষ শেখ হাসিনাকে ইতিহাসের নির্মম শাস্তি দিয়ে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে।
ভারতের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের যদি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, মর্যাদা ও বিচার ব্যবস্থার ওপর ন্যূনতম শ্রদ্ধাবোধ থেকে থাকে, তাহলে পলাতক খুনি ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের আদালতের কাছে তুলে দেওয়াই ভারতের একমাত্র পথ।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি মুফতী শোয়াইব আহমাদ কাসেমীর সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারি মাওলানা জুবায়ের খানের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ-২ আসনের সংসদ সদস্য মুফতী মুহাম্মাদুল্লাহ।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শারাফাত হুসাইন, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আবুল হাসানাত জালালী, কেন্দ্রীয় বাইতুল মাল সম্পাদক মাওলানা ফজলুর রহমান, মেহেরপুর জেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা হোসাইন আহমাদ, কুষ্টিয়া জেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা আব্দুল লতিফ খান ও সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আরিফুজ্জামান আরিফ, ঝিনাইদহ জেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা মিজানুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান লাল এবং বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কমিটির আহ্বায়ক মুহাম্মদ শাহরীয়ার আলম প্রমুখ।
পড়ুন : নোয়াখালীতে মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে র্যালী ও সমাবেশ


