নেত্রকোনার কলমাকান্দায় পাঁচ বছরের শিশু জান্নাতুলকে গামছা পেঁচিয়ে ও শরীর খণ্ডিত করে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় মূল আসামি মজিবুরকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
রবিবার (১৯ জুলাই) রাত সোয়া ৭টার দিকে র্যাব-১৪-এর অধিনায়কের পক্ষে মিডিয়া অফিসার (সিনিয়র সহকারী পরিচালক) প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। এরআগে, গতকাল (শনিবার) রাতে ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব জানায়, নৃশংস শিশু হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই মূল আসামি মজিবুর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছদ্মবেশে আত্মগোপন করেছিল। মামলা রুজুর পর থেকেই র্যাব-১৪ এর একটি দল আসামিকে গ্রেফতারে ছায়াতদন্ত ও গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে। অবশেষে শনিবার রাতে র্যাব-১০ এর (সিপিসি-১) সহায়তায় ডিএমপির যাত্রাবাড়ী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় র্যাব-১৪।
নিহত শিশু জান্নাতুল (৫) কলমাকান্দা থানার হুগলি গ্রামের মো. আর্শাদ মিয়ার মেয়ে। গত ৪ মে বিকেল ৪টার দিকে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় সে। অনেক খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে ওই দিনই কলমাকান্দা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে তার পরিবার।
নিখোঁজের দুই দিন পর, গত ৬ মে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বাড়ির পাশে ফসলি জমির আইল থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়। হত্যার ধরন ছিল অত্যন্ত লোমহর্ষক। শিশুটির গলায় ও মুখের ভেতরে গামছা বাঁধা ছিল এবং তার শরীরের বিভিন্ন অংশ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পাওয়া যায়।
অমানবিক এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে ৬ মে কলমাকান্দা থানায় হত্যা মামলা (মামলা নং-১০) দায়ের করেন। ঘটনাটি তখন এলাকাসহ সারা দেশে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
র্যাব-১৪ এর মিডিয়া অফিসার জানান, গ্রেফতারকৃত হত্যা মামলার প্রধান আসামি মজিবুরকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। অপরাধ দমন ও পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে র্যাবের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পড়ুন : শাপলা চত্বরে হেফাজতের সমাবেশে হামলায় ৬১ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে: চিফ প্রসিকিউটর
সা/


