দিনাজপুর ট্যাক্সেস বার অ্যাসোসিয়েশনের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনে ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও মনোনয়নপত্র বাতিল নিয়ে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ ও নতুন করে তফসিল ঘোষণার দাবিতে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলন করেছেন সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী মোঃ শাহনেওয়াজ ফিরোজ শুভ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, গত ১৩ জুন শনিবার অনুষ্ঠিত সংগঠনের দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভার পর গত ৬ জুলাই প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট মোঃ মেহবুব হাসান চৌধুরী নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করেন। সেই তফসিল অনুযায়ী ১১ জুলাই ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়। অভিযোগ, প্রকাশিত ওই তালিকায় ১৩ জুনের সাধারণ সভার হাজিরা অনুলিপিতে থাকা বত্রিশ জন সদস্যের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ডাকযোগে ও সরাসরি লিখিত অভিযোগ জানানো হলেও নির্বাচন কমিশনারের পক্ষ থেকে কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
শাহনেওয়াজ ফিরোজ শুভ আরও অভিযোগ করেন, ২০২৩ সালের দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভায় অনুমোদিত সংশোধনী বিধান অনুসারে গত ১৩ জুলাই তিনি সাধারণ সম্পাদক পদে, অ্যাডভোকেট মোঃ আব্দুল হাকিম সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে এবং অ্যাডভোকেট শ্রী দিলীপ চন্দ্র পাল কোষাধ্যক্ষ পদে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে জমা দেন। কিন্তু ৩০ জুন তারিখের একটি নোটিশ দেখিয়ে তার মনোনয়নপত্রসহ মোট চারজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। বাতিলের কারণ হিসেবে “সংশোধিত গঠনতন্ত্র” অনুযায়ী প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতার অভাব উল্লেখ করা হলেও ওই সংশোধিত গঠনতন্ত্রের কোনো রেজুলেশনের অনুলিপি প্রার্থীদের সরবরাহ করা হয়নি এবং সংশোধনীর জন্য কোনো সভাও অনুষ্ঠিত হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মোল্লা মোহাম্মদ শাফায়েত হোসেনের সদস্যপদ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শাহনেওয়াজ ফিরোজ শুভ। তিনি জানান, তিনি নিজে ২০১৭ সালের ২১ নভেম্বর সংগঠনের সদস্যপদ লাভ করেন, যেখানে তার প্রতিদ্বন্দ্বী মাত্র বিশ দিন আগে, একই বছরের ১ নভেম্বর সদস্যপদ লাভ করেন।
তার অভিযোগ, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী অতীতে গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে দুই দফায় সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন, যদিও তখনকার নিয়ম অনুযায়ী ওই পদে প্রার্থী হতে ন্যূনতম পনেরো বছরের সদস্যপদের যোগ্যতা প্রয়োজন ছিল এবং তার প্রকৃত যোগ্যতা ছিল মাত্র দুই বছর। এরপরও নির্বাচন কমিশনার তাকে বৈধ ঘোষণা করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে শাহনেওয়াজ ফিরোজ শুভ দাবি করেন, প্রতিবাদ করার কারণে তিনি বিভিন্নভাবে হুমকির মুখে রয়েছেন এবং তার কিছু ঘটলে এর দায় নির্বাচন কমিশনারকে নিতে হবে। তিনি জানান, এই অনিয়মের প্রতিকার চেয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডেও লিখিতভাবে অভিযোগ জানানো হয়েছে, তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সবশেষে সাংবাদিকদের মাধ্যমে তিনি নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ ও নতুন করে তফসিল ঘোষণার দাবি জানান।
এ বিষয়ে দিনাজপুর ট্যাক্সেস বার অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট মোঃ মেহবুব হাসান চৌধুরীর কোনো প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।
পড়ুন : রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক সাহেদ ফের গ্রেপ্তার
সা/


