নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলার বিভিন্ন হাওরে অবৈধ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত কারেন্ট জালের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে প্রায় এক হাজার পাঁচশো মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করে তা জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। মৎস্যসম্পদ ও হাওরের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
রবিবার (২০ জুলাই) সকাল ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত উপজেলার চাকুয়া ও সদর ইউনিয়নের বিস্তৃত হাওরগুলোতে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. অলিদুজ্জামান। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন খালিয়াজুরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসিরউদ্দিন। এছাড়া উপজেলা মৎস্য বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং থানা পুলিশের একটি দল এ অভিযানে অংশগ্রহণ করে।
অভিযানকালে হাওরের বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে অবৈধভাবে পেতে রাখা নিষিদ্ধ কারেন্ট জালগুলো জব্দ করা হয় এবং পরে তা তাৎক্ষণিকভাবে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। মৎস্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কারেন্ট জালের ব্যবহার হাওরের মৎস্যসম্পদের জন্য অশনিসংকেত। এসব জালের ফাঁদ অত্যন্ত সূক্ষ্ম হওয়ায় এতে মাছের রেণু পোনা এবং অন্যান্য ক্ষুদ্র জলজ জীব আটকে মারা যায়। এর ফলে জলজ জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের মৎস্য উৎপাদন ও সম্পদের জন্য চরম হুমকি সৃষ্টি করছে।
অভিযান শেষে খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. অলিদুজ্জামান জানান, “হাওরের জীববৈচিত্র্য ও মৎস্যসম্পদ রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর। অবৈধ ও নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে কেউ যেন মাছ আহরণ করতে না পারে, সেজন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত তদারকি ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। হাওরের প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও মৎস্যসম্পদের সমৃদ্ধি বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
খালিয়াজুরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসিরউদ্দিন বলেন, “মৎস্যসম্পদ রক্ষায় প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন একযোগে কাজ করছে। হাওরের মাছ দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। যারা নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে মাছের উৎপাদন ও প্রজনন ব্যাহত করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। হাওরের মৎস্যসম্পদ সমৃদ্ধ রাখতে ভবিষ্যতেও আমাদের এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।”
প্রশাসনের এমন ধারাবাহিক অভিযানের ফলে হাওরাঞ্চলে অবৈধ জাল দিয়ে মাছ শিকারের প্রবণতা কমে আসবে এবং দেশীয় প্রজাতির মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় মৎস্যজীবীরা।
পড়ুন : রাজধানীর মিরপুরে আতশবাজি বিস্ফোরণে দগ্ধ ৪
সা/


