কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে দুই মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হতাশাজনক চিত্র দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন। তিনি বলেছেন,বসে বসে বেতন নেওয়ার দিন শেষ। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আনতে হবে, কোনো গাফিলতি বরদাশত করা হবে না।
সোমবার (২০ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার চণ্ডীপাশা ইউনিয়নের চিলাকারা বালিকা দাখিল মাদ্রাসা ও শৈলজানি আলিম মাদ্রাসা পরিদর্শন করেন সংসদ সদস্য।
পরিদর্শনে দেখা যায়, চিলাকারা রাশিদিয়া বালিকা দাখিল মাদ্রাসায় ৩০২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ছিল মাত্র ৫৯ জন। আর শৈলজানি আলিম মাদ্রাসায় ৪৮৯ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত পাওয়া যায় ১০৬ জনকে।
এ ছাড়া শৈলজানি আলিম মাদ্রাসার ২৬ জন শিক্ষকের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ২২ জন। একজন পারিবারিক কারণে ছুটিতে ছিলেন, একজন ফোনে ছুটি নিয়েছেন এবং অপর দুই শিক্ষকের অনুপস্থিতির কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের পড়াশোনার মান ও শিক্ষা কার্যক্রমের বিষয়ে খোঁজ নেন এমপি। তাদের উত্তর সন্তোষজনক না হওয়ায় তিনি সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির দায়িত্বহীনতার সমালোচনা করেন।
অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন বলেন,শিক্ষার্থীরাই দেশের ভবিষ্যৎ। কিন্তু দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে আমি হতাশ হয়েছি। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি খুবই কম। শিক্ষার পরিবেশও সন্তোষজনক নয়। শিক্ষকদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।
তিনি বলেন, মাদ্রাসার বাথরুম অপরিচ্ছন্ন, খেলার মাঠ ব্যবহারের অনুপযোগী। যারা নিয়মিত ক্লাসে আসে না, তাদের খোঁজ নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফিরিয়ে আনতে হবে। শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির গাফিলতির সুযোগ নেই। বসে বসে বেতন নেওয়ার দিন শেষ।
পরে সংসদ সদস্য পাকুন্দিয়া সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ও পরিদর্শন করেন। এ সময় পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুপম দাস, পাকুন্দিয়া প্রেস ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ এনামুল হক, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এমদাদুল হক মাসুদ, কৃষক দলের সভাপতি শামসুল হক মিঠু, যুবদলের সদস্য সচিব রাকিবুল আলম ছোটন, ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাজহারুল হক উজ্জ্বলসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পড়ুন : ১৬ ডিসেম্বর চালু হচ্ছে শাহজালালের থার্ড টার্মিনাল
সা/


