দিনাজপুর সদর উপজেলার ৪ নম্বর শেখপুরা ইউনিয়নের ১ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বেলতৈড় এলাকায় আরিফুল ইসলামের বাড়ির সামনে থেকে হুসেনপুর হাজীদিঘী পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘদিন ধরে কাঁচা থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে কাদার কারণে চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে। ফলে শেখপুরা ইউনিয়ন থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার দূরের দিনাজপুর শহরে যেতেও কাদা মাড়িয়ে যেতে হয় এলাকাবাসীকে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা এসে সড়কটি পরিদর্শন ও পরিমাপ করলেও এখনো পাকা করার কাজ শুরু হয়নি। অথচ একই ইউনিয়নের অনেক সড়ক ইতোমধ্যে পাকা করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা জিতেন চন্দ্র রায় বলেন, “১৯৮১ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত অনেক চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু আমাদের এই সড়কটি আজও পাকা হয়নি। আমরা চাই দ্রুত সড়কটি নির্মাণ করা হোক।”
মো. আবেদ আলী বলেন, “বর্ষার সময় এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। সরকার দ্রুত রাস্তা পাকা করে দিলে আমাদের দুর্ভোগ অনেক কমে যাবে।”
একই গ্রামের হিরো কুমার দাস জানান, কয়েক হাজার মানুষের বসবাস এই সড়কের পাশে। প্রতিদিন হাজারো মানুষ, সাইকেল, মোটরসাইকেল ও বিভিন্ন যানবাহন এই পথে চলাচল করে। বেলতৈড় গ্রামের ঐতিহ্যবাহী হরিবাসর অনুষ্ঠানও কেবল রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে পিছিয়ে দিতে হয়েছে।
আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, “প্রায় ৬৫ বছর ধরে শুনে আসছি রাস্তা পাকা হবে। এখন সেই আশাই ছেড়ে দিয়েছি। কয়েকদিন আগে কিছু কর্মকর্তা এসে রাস্তা মেপে বলেছিলেন, বর্ষার মধ্যেই পাকা রাস্তায় চলাচল করতে পারবেন। কিন্তু এখনো কোনো কাজ শুরু হয়নি। কেউ বলেন এক কিলোমিটার হবে, কেউ বলেন আধা কিলোমিটার হবে—কিন্তু বাস্তবে কিছুই হচ্ছে না।”
তিনি আরও বলেন, “এই রাস্তা পাকা হবে—এমন আশায় অপেক্ষা করতে করতেই অনেক মানুষ মারা গেছেন, কেউ আবার মৃত্যুশয্যায়। আমরা আদৌ পাকা রাস্তা দিয়ে শহরে যেতে পারব কি না, তা নিয়েই সন্দেহ রয়েছে।”
স্থানীয় বাসিন্দা লিটন কুমার দাস বলেন, “সরকারি কর্মকর্তারা বারবার রাস্তা দেখতে আসেন। কিন্তু কাজের অগ্রগতি নেই। বর্ষাকালে স্কুলগামী শিশুদের নিয়ে অভিভাবকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। দ্রুত বাজেট বরাদ্দ দিয়ে সড়কটি পাকা করার দাবি জানাচ্ছি।”
এ বিষয়ে স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এনে বেলতৈড় থেকে হুসেনপুর হাজীদিঘী পর্যন্ত সড়কটি পাকা করা হলে কয়েক হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান হবে।
এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট সড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন,সরকারি ঘোষণার আলোকে বিভিন্ন সড়কের জন্য বাজেট অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে কাজ শুরু করা হবে প্রতিটি রাস্তা।
পড়ুন : রাজবাড়ীতে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক সংবাদ প্রকাশের বিরুদ্ধে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত


