টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে দেশের কয়েকটি নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। কুশিয়ারা ও সোমেশ্বরী নদীর কয়েকটি পয়েন্টে পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে অন্তত ১৪ জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা ও সাময়িক প্লাবনের আশঙ্কার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, কুশিয়ারা নদীর পানি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে এবং সোমেশ্বরী নদীর পানি নেত্রকোনার কলমাকান্দা স্টেশনে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। ফলে এসব এলাকার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকায় নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
আগামী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট, সুনামগঞ্জ ও নওগাঁ জেলার কিছু এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি বা বিদ্যমান পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। তবে সোমেশ্বরী নদীর পানি কমতে থাকায় নেত্রকোনার চলমান বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে।
এ ছাড়া সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বান্দরবান, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের কয়েকটি পয়েন্টে সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি স্থিতিশীল থাকলেও যমুনা এবং গঙ্গা-পদ্মার পানি বাড়ছে। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার কয়েকটি স্থানে নদীর পানি সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে রাজশাহী অঞ্চলের আত্রাই নদীর পানিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় নদীটির কয়েকটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নওগাঁ জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
পড়ুন: রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ প্রসঙ্গে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
আর/


