জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের আগাম দেশে ফেরার খবরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে। এরইমধ্যে শুক্রবার (২৪ জুলাই) থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে দেশে ফিরেছেন স্পিকার।
এদিকে, সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার বরাবর স্বাক্ষরযুক্ত ইস্তফাপত্র জমা দেওয়ার নিয়ম। আজ বিকেলে বা আগামীকাল মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করতে পারেন।
সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হয়। এছাড়াও, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে সংবিধানের ৫৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত সেই দায়িত্ব পালন করবেন স্পিকার। তবে সংসদে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবেই প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়ন দেবে।
এরইমধ্যে গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ করতে চাইলে সেই সুযোগ রয়েছে সংবিধানের ৫৪ নম্বর অনুচ্ছেদে। তবে এরইমধ্যে সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে উচ্চপদস্থ আমলাসহ বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের নাম আসছে।
এর আগে, মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল। স্বাভাবিক মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত। আওয়ামী লীগের পছন্দে রাষ্ট্রপতি হলেও ৫ আগস্টের পর তার কাছেই শপথ নেয় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী এবং তারেক রহমানের নির্বাচিত সরকার।
সাংবাদিকেরা মির্জা ফখরুল ইসলামের কাছে জানতে চান, রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের গুঞ্জন চলছে। তিনি পদত্যাগ করলে নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন?
জবাবে বিএনপির অন্যতম শীর্ষ এই নেতা বলেন, রাষ্ট্রপতির বিষয় নিয়ে এখনই কিছু বলা যাবে না। অপেক্ষা করেন, সময় হলেই জানতে পারবেন।
এদিকে রাষ্ট্রপতি পদে কে আসতে পারেন, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পালন করা একজন সচিবের নাম সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে নতুন করে আলোচনায় এসেছে। যদিও এর আগে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খানসহ আরও কয়েকজনের নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচিত হয়েছিল।
সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে জাতীয় সংসদের স্পিকার সাময়িকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। নতুন রাষ্ট্রপতির মেয়াদকালেই পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকায় বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
তবে রাষ্ট্রপতি পদে নিজের নাম আলোচনায় থাকার বিষয়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। তিনি বলেন, আমি এ বিষয়ে একেবারেই অবগত নই। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে অনেকের নামই আলোচনায় আসতে পারে, সেটিই স্বাভাবিক।
পড়ুন : পদত্যাগ করবেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন, আলোচনায় আছেন যারা


