সাম্প্রতিক বন্যায় চট্টগ্রামের পানচাষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে। টানা বৃষ্টি ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় জেলার পটিয়া, আনোয়ারা, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও বাঁশখালীর তিন হাজারেরও বেশি পানচাষীর পানবরজ তলিয়ে গেছে। এতে পানগাছ পচে নষ্ট হওয়ায় উৎপাদন কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে। প্রাথমিক হিসেবে কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ক্ষতিগ্রস্ত পানচাষীরা জানান, একটি পানবরজ গড়ে তুলতে কয়েক লাখ টাকা বিনিয়োগ করতে হয়। কিন্তু এবারের বন্যায় সেই বিনিয়োগ মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেছে। অনেক কৃষক ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে পানচাষ করেছিলেন। বরজ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় নতুন করে চাষাবাদ শুরু করা এবং ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পানচাষী বিরাজ বলেন, পানচাষই তাদের পরিবারের প্রধান ও একমাত্র আয়ের উৎস। বরজ ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় সংসার চালানো নিয়ে তারা চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। দ্রুত সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ না নিলে অনেকেই বাধ্য হয়ে পানচাষ ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যেতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
হাঈদগাও ইউপি চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দিন জানান, “বিগত ৪৩ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা ছিল এটি। এই অঞ্চলে কৃষকরা পানচাষের উপর অধিক নির্ভরশীল। বন্যায় কৃষক খুব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানিয়েছি তিনি সহযোগিতার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন বলে জানিয়েছেন”।
পটিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহ বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পানবরজের তথ্য সংগ্রহ ও তালিকা তৈরির কাজ চলছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর পর সরকারি সহায়তার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, ক্ষয়ক্ষতির হিসাব তৈরির পাশাপাশি দ্রুত আর্থিক সহায়তা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় কয়েক কোটি টাকার এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা কঠিন হবে এবং চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী পানচাষ দীর্ঘমেয়াদে মারাত্মক সংকটের মুখে পড়বে।
পড়ুন : মানবিক উদ্যোগে চর মিরপুরে খাল পারাপারের নৌকা দিলেন হাজী আব্দুস সাত্তার


