বিজ্ঞাপন

দিনাজপুরে কেয়ারার্স অ্যান্ড কমিউনিটি মেন্টাল হেলথ প্রজেক্ট

মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাজনিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও তাদের পরিচর্যাকারীদের (কেয়ারার) অধিকার, মর্যাদা এবং কল্যাণ নিশ্চিতকরণে কাজ করছে কেয়ারার্স অ্যান্ড কমিউনিটি মেন্টাল হেলথ প্রজেক্ট। যার মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাজনিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং তাদের কেয়ারার উভয়েই মর্যাদা, সমতা এবং প্রয়োজনীয় সেবা পাচ্ছেন। কেয়ারারদের উপযুক্ত সম্মান, স্বীকৃতি, প্রয়োজনীয় সেবা ও অধিকার নিশ্চিত করলে পরিবার ভালো থাকবে; পরিবার ভালো থাকলে সমাজ হবে আরও মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক।

গতকাল শনিবার দুপুরে দিনাজপুর প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান, কেয়ারার ওয়ার্ল্ডওয়াইডের ফাউন্ডার ও নির্বাহী পরিচালক অনিল পালিত। এ সময় সেন্টার ফর ডিসএ্যাবিলিটি ইন ডেভেলপমেন্ট (সিডিডি)’র কেয়ারার্স অ্যান্ড কমিউনিটি মেন্টাল হেলথ প্রজেক্টের প্রজেক্ট সুপারভাইজার মইনুল ইসলাম, দিনাজপুরের প্রজেক্ট ফিল্ড ম্যানেজার মুকুল কিসকু এবং মনোসামাজিক পরামর্শদাতা রুকুনুজ্জামান খান উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, মানসিক স্বাস্থ্যসমস্যাজনিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারের সদস্য, বিশেষ করে যারা নিয়মিত তাদের পরিচর্যা করেন (কেয়ারার), তারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক, মানসিক, শারীরিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন। কেয়ারাররা সমাজে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা সত্ত্বেও তাদের অবদান প্রায়শই সঠিকভাবে স্বীকৃত হয় না। এই বাস্তবতাকে মাথায় রেখে, দিনাজপুরে তাদের জন্য সমন্বিত শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, কাউন্সেলিং, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর প্রধান কার্যক্রমে রয়েছে কমিউনিটি পর্যায়ে হেলথ ক্যাম্পের মাধ্যমে তাদেরকে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা, হোম ভিজিট এবং কেয়ারার গ্রুপ মিটিংয়ের মাধ্যমে কেয়ারারদের মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা ও বিষণ্নতা কাটিয়ে উঠতে কাউন্সেলিং এবং সাইকোসোশ্যাল সাপোর্ট দেওয়া, কেয়ারারদের দক্ষতা বৃদ্ধি, সচেতনতা তৈরি এবং আত্মবিশ্বাস বাড়াতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও সভা আয়োজন করা, পরিবার ও সমাজে মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরির লক্ষ্যে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা এবং স্থানীয় সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সাথে সমন্বয় জোরদার করা। এই প্রকল্পের আওতায় দিনাজপুর কেয়ারার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিসিএ) গঠন করা হয়েছে। এটি কেয়ারারদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে। পাশাপাশি কেয়ারারদের সামাজিক মর্যাদা ও স্বীকৃতি বৃদ্ধি, নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা, স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে কেয়ারার-বান্ধব নীতিমালা ও সেবা নিশ্চিত করতে অ্যাডভোকেসি করা এবং মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সমাজে বিদ্যমান কুসংস্কার, বৈষম্য ও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দূর করতে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতেও ভুমিকা রাখবে।

একজন কেয়ারার যখন সুস্থ থাকবেন, তখন মানসিক স্বাস্থ্যসমস্যাজনিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সুস্থতা ও পুনর্বাসন আরও কার্যকর হবে। অতএব, কেয়ারারদের কল্যাণ নিশ্চিত করা মানসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

দিনাজপুরে কমিউনিটি মেন্টাল হেলথ প্রকল্পটি গত ১ বছরে কেয়ারার এবং মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে বসবাসকারী ৫০২ জন পারিবারিক সদস্যকে সহায়তা করেছে। উল্লেখযোগ্য ফলাফলের মধ্যে কেয়ারারদের কর্মক্ষমতার উন্নতি ও পরিচর্যার সময় হ্রাস পেয়েছে। কেয়ারারদের মধ্যে বিজ্ঞানসম্মত মানসিক স্বাস্থ্যসেবার প্রতি ঝোঁক লক্ষ্য করা গেছে। ৭৩ শতাংশ কেয়ারার এখন প্রাতিষ্ঠানিক চিকিৎসা ও মানসিক চিকিৎসা গ্রহণ করছেন এবং এর ওপর আস্থা রাখছেন। যদিও ২৭ শতাংশ কেয়ারার এখনও অনিশ্চিত বা অপচিকিৎসা/ঐতিহ্যগত পদ্ধতির দ্বারা প্রভাবিত রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : সিএনজি চালক বাবার ঘামের-শ্রমে ছেলে এখন ৪৬ ও ৪৭তম বিসিএসের ক্যাডার

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন