টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে মারধর ও ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা মোরশেদা আক্তার (৩৫) নামে ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে। গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত মোরশেদা আক্তার উপজেলার তরফপুর ইউনিয়নের দরানিপাড়া গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী সাইদুল ইসলামের স্ত্রী। তিনি দুই সন্তানের জননী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২২ জুলাই রাতে মোরশেদা আক্তার তার ১২-১৩ বছর বয়সী ছোট ছেলেকে নিয়ে বাড়িতে ছিলেন। এ সময় প্রতিবেশী তোতা মিয়ার ছেলে আরিফ নামে এক যুবক জোরপূর্বক তার ঘরে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে তাকে মারধর ও ধর্ষণ করে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
পরদিন বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে খবর পেয়ে গাজীপুরের কালিয়াকৈর থেকে মোরশেদার বড় ছেলে মাহিম বাড়িতে আসেন। পরিবারের সদস্যরা গুরুতর আহত অবস্থায় মোরশেদাকে মির্জাপুরের কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
পরিবারের দাবি, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোরশেদা তার ওপর নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনা স্বজনদের কাছে বর্ণনা করেন। এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত আরিফ পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শনিবার (২৫ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মোরশেদার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে তার মরদেহ বাবার বাড়ি গাজীপুরের কালিয়াকৈরে নিয়ে দাফন করা হয়।
এদিকে স্ত্রীর মৃত্যুর খবর পেয়ে শুক্রবার মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফেরেন মোরশেদার স্বামী সাইদুল ইসলাম। তিনি অভিযুক্ত আরিফকে একমাত্র আসামি করে মির্জাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
মির্জাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) লোকমান হোসেন জানান, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মোরশেদার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত আরিফকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পড়ুন : কুড়িগ্রামে পুলিশের বিরুদ্ধে ঘুষের বিনিময়ে মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের অভিযোগ


