স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পর বাংলাদেশে ওষুধের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কারণ, এলডিসি সুবিধা শেষ হলে ওষুধ উৎপাদনে ব্যবহৃত বিভিন্ন পেটেন্ট প্রযুক্তি আর বিনামূল্যে ব্যবহার করা যাবে না। তবে এই সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আশার আলো দেখাচ্ছে দেশীয় তরুণ গবেষকদের একটি উদ্যোগ।
দেশীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডন অব বায়োইনফরম্যাটিক্স দেশের প্রায় ৭০০ ভেষজ উদ্ভিদ থেকে ৬৩ হাজারেরও বেশি ফাইটোকেমিক্যাল বা জৈব রাসায়নিক যৌগের তথ্যভান্ডার তৈরি করেছে। গবেষকদের মতে, এই তথ্যভান্ডার ভবিষ্যতে নতুন ওষুধ আবিষ্কার এবং দেশীয় ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এদিকে ওষুধের ব্যয় নিয়ে উদ্বেগের কথাও জানিয়েছেন রোগীরা। কুমিল্লার আব্দুল বাতেন, যিনি কিডনি রোগের চিকিৎসা নিচ্ছেন, বলেন মাত্র চার দিনে তার ওষুধ কিনতে প্রায় ৮ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ভবিষ্যতে ওষুধের দাম আরও বাড়লে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ড. শিমুল হালদার বলেন, এলডিসি উত্তরণের পর পেটেন্ট-সংক্রান্ত প্রভাব মোকাবিলায় সরকার, বিশ্ববিদ্যালয় ও ওষুধশিল্প একসঙ্গে কাজ করছে। ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গবেষণা ও উদ্ভাবনের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
ডন অব বায়োইনফরম্যাটিক্স লিমিটেডের কর্ণধার এসকে ফয়সাল আহমেদ জানান, তাদের ডাটাবেজ থেকে প্রয়োজনীয় জৈব রাসায়নিক যৌগের তথ্য নিয়ে গবেষকরা দ্রুত নতুন ওষুধ আবিষ্কারের কাজ শুরু করতে পারবেন। এতে সময় ও ব্যয় উভয়ই কমবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ডাটাবেজ ইতোমধ্যে দেশের ৪৫টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও গবেষক ব্যবহার করছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. জাকির আহমেদ চৌধুরী বলেন, নতুন ওষুধ উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক ধাপ হলেও নিরাপদ ও কার্যকর ওষুধ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে ল্যাবরেটরি গবেষণা, প্রি-ক্লিনিক্যাল ও ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সম্পন্ন করতে হবে।
দেশের ওষুধ শিল্পকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখতে গবেষণা, উদ্ভাবন এবং দেশীয় প্রযুক্তিনির্ভর ওষুধ আবিষ্কারে আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
পড়ুন:ঢাকা-খাগড়াছড়ি মহাসড়কে চলছে ৪৮ ঘণ্টার হরতাল
ইমি/


