বরিশাল সদর উপজেলার কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে বরিশালে। কমিটিকে কেন্দ্র করে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে বরিশাল বিএনপি। পদ বঞ্চিতরা কমিটির বিপক্ষে সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধন, ঝাড়ু মিছিল করেছে। অন্য পক্ষ কমিটি গঠন হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানিয়ে সমাবেশ ও আনন্দ মিছিল করেছে। পাল্টাপাল্টি এই কর্মসূচির ফলে নগরবাসীর মধ্যেও দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। তবে জেলা বিএনপি এই কমিটি সম্পর্কে না জানায় এটিকে অবৈধ বলছে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) এবং বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এড. বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন। তিনি বলেন, জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ জানে না। কমিটিতে গেল ১৭ বছর যারা আন্দোলন সংগ্রাম করেছে তাদেরকে বাদ দেয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগ এবং জামায়াত নেতাদেরকে কমিটিতে আনা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই কিমিটি ভেঙে দেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি। অন্যদিকে সদর আসনের এমপি এডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার বলেছেন, ঝাড়ু মিছিলের বিষয়টি ভালো হয়নি। যারা ঝাড়ু মিছিল করেছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। তারা আসলে কার বিরুদ্ধে মিছিল টা করেছেন? এই কমিটি কেন্দ্র দিয়েছে। জেলার শাহীনের গায়ে লাগে কিন্তু বাকেরগঞ্জ গিয়ে গয়েশ্বর বাবু বা স্থায়ী কমিটির মেম্বার যখন কমিটি করে তখন আর আইনের কথা বলে না। কাজি যেটা পছন্দ হবে সেটার বিষয়ে চুপ থাকবে আর যেটা পছন্দ হবে না সেটার বিষয়ে বলবে তা তো হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন মজিবর রহমান সরোয়ার। তিনি বলেন, যারা ঝাড়ু মিছিল করেছে তাদের যেমন বিচার হওয়া দরকার তেমনি যদি আওয়ামী লীগের দোসর পাওয়া যায় তবে তাদেরও বিচার করা দরকার। অন্যদিকে নতুন কমিটির আহবায় নুরুল আমিন বলেন, কমিটিতে যারা পদ পদবী পায়নি তারাই বিশৃঙ্খলা করছে। কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিরুদ্ধে চরণ করছে। অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করার দায়ে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া উচিত। তাকে জামায়েতের গুপ্ত বলা হচ্ছে প্রশ্নের জবাবে তিনি দাবি করেন, বিগত ১৭ বছরে তিনি যে কয়টি মামলা খেয়েছেন সবগুলো বিএনপি’র পদ পদবীর কারণে খেয়েছেন। তিনি সর্বোচ্চ নেতাকর্মী নিয়ে বিগত সময়ের প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেছেন। সামনের প্রতিটি ইউনিয়নের গ্রহণযোগ্য সুন্দর কমিটির করতে চান তিনি। জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবুল কালাম শাহীন এবং দুই নম্বর সিনিয়র সদস্য, সদর উপজেলা বিএনপি সাবেক আহবায়ক এড. এনায়েত হোসেন বাচ্চু জানান, কমিটি মূলত জেলার সাথে পরামর্শ করে নেয়া উচিত। কেন্দ্র তো জানেনা কে আওয়ামী লীগ, কে বিএনপি, কে অনুপ্রবেশকারী, কে জামায়াত, কে গুপ্ত। বরং এভাবে কমিটি দেওয়ার ফলে আরো দলের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি হয়। পদ না পাওয়া সাবু চেয়ারম্যান সহ অনেকে দাবী করেন, এই কমিটিতে মৃত ব্যক্তি এবং আওয়ামী লীগের সাথে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত ছিল এমন লোক রয়েছে। জামায়াত-আওয়ামী লীগ সমন্বয়ে এই কমিটি। চন্দ্রমহন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজুল হক মাস্টার তিনি ২১ এ আগস্টে সাবেক পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল জাহিদ ফারুক শামীমের সভায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ফাঁসি চেয়েছিলেন। তাকে এই কমিটির সদস্য করা হয়েছে। অনৈতিক লেনদেনের কথা উল্লেখ করে তারা জানান, যারা এই কমিটি অনুমোদনের পেছনে কল কাটি নেরেছেন তাদের প্রতি তীব্র নিন্দা জানান। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ১৮ জুলাই বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির ১৬১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। কমিটিতে আহ্বায়ক করা হয়েছে নুরুল আমিনকে এবং সদস্যসচিব করা হয়েছে সাইফুল ইসলাম আব্বাসকে।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভীর স্বাক্ষরে এ কমিটি ঘোষণা করা হয়।
নতুন কমিটি ঘোষণার পর দলীয় চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই দুপুরে নগরীতে আনন্দ মিছিল করেন সদর উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা। অপর দিকে পদ পদবী বঞ্চিত নেতাকর্মীরা ২৫ জুলাই মানববন্ধন করে কমিটি বাতিলের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ করে। পাল্টাপাল্টি এই কর্মসূচির ফলে উত্তেজনা বিরাজ করছে উভয়পক্ষের মধ্যে। তবে দুই গ্রুপের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি মুখোমুখি অবস্থান নিলে যেকোনো সময় সংঘর্ষের আশঙ্কা করছে অনেকে। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি হেডকোয়ার্টার মোঃ আব্দুল হান্নান জানান, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবেলায় পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে। কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে সেজন্য পুলিশ সব কিছু নজরদারিতে রেখেছে। এখানে কে কোন দল করে সেটি বিবেচ্য বিষয় নয় আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ রাখাটাই বিষয়।
পড়ুন:সোনারহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘মাদক ও মানব পাচারকে না বলুন’ শীর্ষক সচেতনতামূলক আলোচনা সভা
ইমি/


