বিজিবি কর্তৃক দিনাজপুরের সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসরত বেসামরিক যুবকদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করা হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই ২০২৬) দুপুরে দিনাজপুর ৪২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের ব্যবস্থাপনায় বিরল উপজেলা মডেল মসজিদ কমপ্লেক্সে এই প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দিনাজপুর ৪২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান, দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিজিবি দিনাজপুর সেক্টরের অতিরিক্ত পরিচালক (অপারেশন) মেজর তানিম হাসান খান, বিজিবি দিনাজপুর সেক্টরের মেডিকেল অফিসার ক্যাপ্টেন এস এম মাহদী জামান, মোঃ রেজাউল ইসলাম, বিরল উপজেলা নির্বাহী অফিসার, বিজিবি ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত কোয়ার্টার মাষ্টার সহকারী পরিচালক মোঃ মাহফুজুর রহমান, জুনিয়র কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
দিনাজপুর ৪২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সীমান্ত অঞ্চলের যুবসমাজকে দক্ষতা ও সচেতনতায় সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলা হলে তারা মাদক, চোরাচালান ও অন্যান্য সামাজিক অপরাধ থেকে দূরে থেকে দেশপ্রেমিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।
জেলা প্রশাসক মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা সীমান্তবর্তী এলাকার যুবসমাজের আত্মবিশ্বাস ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি আশা করেন, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যুবসমাজ বাস্তব জীবনে এই প্রশিক্ষণের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে নিজেদের যোগ্য ও দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলে দেশের উন্নয়ন, সামাজিক অগ্রগতি ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে সক্রিয় অবদান রাখবেন।
বিজিবি দেশের সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের জানমাল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বদা সচেষ্ট। চোরাচালান, মাদক, মানব ও অস্ত্র পাচারসহ বিভিন্ন আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে বাহিনীটি বরাবরই প্রশংসনীয় সাফল্য প্রদর্শন করে আসছে। এছাড়া বিজিবি দেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসরত জনসাধারণের সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। সীমান্তবর্তী এলাকার যুবসমাজ দেশের মানবসম্পদের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের কর্মদক্ষতা, আত্মনির্ভরশীলতা ও ইতিবাচক মানসিকতার বিকাশ কেবল ব্যক্তিগত উন্নয়নই নয়, বরং পরিবার, সমাজ এবং দেশের সামগ্রিক অগ্রগতির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যুবকদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি, দারিদ্র্য বিমোচন এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় বিজিবি এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছে।
উল্লেখ্য, ২৭ জুলাই ২০২৬ হতে ২০ আগস্ট ২০২৬ তারিক পর্যন্ত প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। এই প্রশিক্ষণে সীমান্তবর্তী এলাকার সর্বমোট ১০ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করেছে।
পড়ুন : চাকরির একটি পদের জন্য আবেদন পড়ছে পাঁচ-ছয় লাখ: মির্জা ফখরুল
সা/


