বিজ্ঞাপন

মেহেরপুরে সিলিং ফ্যান বিতরণ না করেই ২ লাখ ১১ হাজার টাকা উত্তোলনের অভিযোগ

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া ইউনিয়নে সরকারের উন্নয়ন তহবিলের আওতায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সিলিং ফ্যান সরবরাহের নামে ২ লাখ ১১ হাজার টাকার বিল-ভাউচার তৈরি করে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগ উঠেছে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সভাপতি ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হকসেদ আলীর বিরুদ্ধে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকারের উন্নয়ন তহবিল থেকে বিভিন্ন শিক্ষপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে মোট ৫৫টি সিলিং ফ্যান সরবরাহের জন্য ২ লাখ ১১ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, বাস্তবে কোনো প্রতিষ্ঠানে একটি ফ্যানও সরবরাহ না করেই বিল-ভাউচার প্রস্তুত করে পুরো বরাদ্দের অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে।

সরেজমিনে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে খোঁজ নিয়ে ফ্যান না পাওয়ার তথ্য মিলেছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি উন্নয়ন তহবিলের অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় না হলে জনস্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ড প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রকল্পের পিআইসি সভাপতি হকসেদ আলী। তিনি বলেন, ফ্যান বিতরণ হয়নি,এ তথ্য সঠিক নয়। বরাদ্দ অনুযায়ী সব ফ্যান সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে বিতরণ করা হয়েছে।

এদিকে তেঁতুলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান জানান, প্রকল্পের বিল উত্তোলন হয়েছে এবং ফ্যানও বিতরণ করা হয়েছে।
তবে তিনি স্বীকার করেন, এখন পর্যন্ত ফ্যান বিতরণের মাস্টাররোল বা গ্রহণ তালিকা পিআইসি জমা দেয়নি। জুন মাসে অর্থবছরের সমাপনী (ক্লোজিং) শেষ হলেও কেন মাস্টাররোল ছাড়া বিল নিষ্পত্তি করা হয়েছে, এ প্রশ্নের সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি তিনি

অন্যদিকে তেঁতুলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক রকিব উদ্দিন ভিন্ন তথ্য দিয়ে বলেন, “আমার জানা মতে একটি ফ্যানও বিতরণ করা হয়নি। বিল-ভাউচার তৈরি করে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আনোয়ার হোসেন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায় বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। অভিযোগের বিষয়টি খোঁজ নিয়ে সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

খুলনার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) আবু সায়েদ মো. মনজুর আলম বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি তাদের।

পড়ুন : রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ হয়নি, তবে প্রস্তুত কমিশন: সিইসি

সা/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন