চলতি মাসে নরসিংদীতে একাধিক বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ও হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলার মাধবদী থানা এলাকায় ঘটে যাওয়া চাঞ্চল্যকর খুনসহ ডাকাতির ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত পেশাদার ডাকাত দলের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যায় মাধবদী থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লাহ-আল-ফারুক এ তথ্য জানান।
পুলিশ সুপার বলেন, গত ১৮ জুলাই ভোররাতে মাধবদী থানার নূরালাপুর ইউনিয়নের বলভদ্রদী গ্রামে সৌদিফেরত মিলনের বাড়িতে একদল সশস্ত্র ডাকাত হানা দেয়। ডাকাতদের প্রতিরোধ করতে গেলে তাদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মিলনের বড় ভাই মো. শাহজাহান (৫৬) নিহত হন এবং তাঁর চাচা মো. সুরুজ মিয়া গুরুতর আহত হন। ডাকাত দল ওই বাড়ি থেকে ১ ভরি স্বর্ণালংকার ও ২টি মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় গত ১৯ জুলাই মাধবদী থানায় একটি ডাকাতি ও হত্যা মামলা (মামলা নং-২৩) দায়ের করা হয়।
ঘটনার পরপরই জেলা পুলিশ কঠোর অভিযানে নামে। এ সময় মাধবদী থানা ও ডিবি পুলিশের সমন্বয়ে একাধিক চৌকস দল গঠন করা হয়। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার নয় দিনের মধ্যে অভিযান চালিয়ে ওই ডাকাত দলকে শনাক্ত এবং তাদের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, নরসিংদী সদর উপজেলাধীন মাধবদী থানার কাঁঠালিয়া ইউনিয়নের খড়িয়া দক্ষিণপাড়া এলাকার হাসান আলীর ছেলে জুবায়ের হোসেন (২০), একই ইউনিয়নের খড়িয়া উত্তরপাড়া এলাকার শাহজাহান মিয়ার ছেলে আশিক আহমেদ (২৩), আব্দুল আউয়ালের ছেলে মোজাহিদ রহমান অপু (২২), মো. ইসলামউদ্দিনের ছেলে মো. সুজন মিয়া (২৫), পাইকারচর ইউনিয়নের চরভাষানিয়া গ্রামের হানিফ মিয়ার ছেলে মো. ফারুক মিয়া (৩০), নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানার যুগাইদা গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে রোমান (২৮) এবং রূপগঞ্জ থানার আমলাপুর গ্রামের লতিফ মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া হানিফ সরদারের ছেলে মো. হৃদয় মিয়া (২২)।
পুলিশ সুপার জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের ইতোমধ্যে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে কয়েকজন এর আগে গত ১১ জুলাই মাধবদীর কাঁঠালিয়া ইউনিয়নের খড়িয়া এলাকায় সংঘটিত ডাকাতি এবং ৩০ জুন পাইকারচর ইউনিয়নের কোতোয়ালিরচর এলাকায় সংঘটিত দিগন্ত হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ও সংশ্লিষ্ট আসামি।
অভিযানকালে গ্রেপ্তারকৃত জুবায়েরের কাছ থেকে ৪ হাজার টাকা এবং আশিক ও সুজনের কাছ থেকে ২ হাজার টাকা করে মোট ৮ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। লুণ্ঠিত বাকি মালামাল উদ্ধারে থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের একাধিক টিমের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।
পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লাহ-আল-ফারুক বলেন, কোনো অপরাধীই পার পাবে না। অপরাধীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে নির্ভয়ে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য নরসিংদীবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
পড়ুন:এনসিপির পদযাত্রায় হামলার অভিযোগ, সারজিস ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আহত
ইমি/


