বিজ্ঞাপন

ভারতীয় গরু ভাগাভাগি নিয়ে বিএনপি-জামায়াত মারামারি‎

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে কাস্টমসের জব্দ করা ভারতীয় গরুর নিলামকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। নিলামকে ঘিরে লভ্যাংশের ভাগবাটোয়ারা নিয়ে বিরোধের অভিযোগ উঠলেও জামায়াত বলছে, তারা প্রকাশ্য ও স্বচ্ছ নিলামের দাবি জানানোয় হামলার শিকার হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে রৌমারী উপজেলা চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।

‎প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, স্থানীয় কাস্টমস কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে জব্দ করা ১০টি ভারতীয় গরুর নিলামের আয়োজন করা হয়। নিলাম শুরুর আগে সেখানে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ দলটির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং জামায়াত ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত হন।

‎অভিযোগ রয়েছে, নিলামকে কেন্দ্র করে লভ্যাংশ ভাগাভাগির বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছিল। একপর্যায়ে জামায়াতপন্থীরা ৫০ শতাংশ এবং বিএনপিপন্থীরা ৩০ শতাংশ ভাগের প্রস্তাব দেয়। এ নিয়ে মতবিরোধ দেখা দিলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

‎এ সময় ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতা মাহাবুব আলম ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ধারণ করতে গেলে তাকে বাধা দেওয়া হয়। এরপর উভয় পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি, হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে দুই দলের স্থানীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

‎পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নিলাম কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। নিলামে যুবদলের কর্মী ও সাবেক ছাত্রনেতা ইসরাফিল সর্বোচ্চ ৫ লাখ ৮৭ হাজার ৫০০ টাকা দর দিয়ে ১০টি গরু কিনে নেন।

‎ঘটনার বিষয়ে উপজেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক শাহাদৎ হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নামমাত্র মূল্যে নিলাম দিয়ে রাষ্ট্রের রাজস্ব ক্ষতির অভিযোগ রয়েছে। আমরা প্রকাশ্য ও স্বচ্ছ নিলামের দাবি জানিয়েছিলাম। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বিএনপির কিছু নেতাকর্মী আমাদের ওপর হামলা চালায়। বিষয়টি স্থানীয় বিএনপি নেতাদের জানিয়েছি। আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে যাতে অধিক নিরাপত্তার মধ্যে প্রকাশ্য নিলাম অনুষ্ঠিত হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।

‎উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান রঞ্জু বলেন, কয়েকটি গরুর নিলামকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। বিএনপি কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলাকে সমর্থন করে না। উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে, বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।

‎রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওছার আলী বলেন, “ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকায় পরিস্থিতি বড় ধরনের সংঘর্ষে রূপ নেয়নি। বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি।”

‎ঘটনাটি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পড়ুন : রয়টার্সের প্রতিবেদন: চীন থেকে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র কিনছে ইরান

সা/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন