জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার একটি এতিমখানার পরিচালনা কমিটি অনুমোদনকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ করে একটি পক্ষকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে দায়িত্ব পালনের সময় তাঁকে হেনস্তা করা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন ওই কর্মকর্তা। তবে উভয় পক্ষই একে অপরের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
মঙ্গলবার উপজেলা প্রশাসনিক ভবনে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচনার জন্ম দেয়।
জানা গেছে, বেনুয়ারচর আব্দুল মালেক মণ্ডল এতিমখানার পরিচালনা কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুটি পক্ষ পৃথকভাবে আবেদন জমা দেয়। উভয় আবেদনেই স্থানীয় সংসদ সদস্যের সুপারিশ থাকায় কমিটি অনুমোদনের বিষয়টি জটিল হয়ে পড়ে।
উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুর রহমান মলিন বলেন, এতিমখানার পরিচালনা কমিটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। তিনি কোনো ধরনের হামলা বা মারধরের সঙ্গে জড়িত নন; বরং উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা করেছেন।
তাঁর দাবি, ঘটনার দিন কমিটি অনুমোদনের বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি হলেও পরবর্তীতে ঘটনাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে তাঁর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ আনা হয়েছে।
মলিন আরও বলেন, প্রথমে আগের কমিটি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য না জেনেই সংসদ সদস্য একটি সুপারিশ করেছিলেন। পরে ওই কমিটিতে আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতা থাকার অভিযোগ ওঠায় নতুন কমিটির জন্য পুনরায় সুপারিশ করা হয়। কিন্তু স্থানীয়ভাবে বিষয়টির নিষ্পত্তি না করে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে পাঠানোয় অপ্রয়োজনীয় জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে চরপুটিমারী ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাজু অভিযোগ করেন, উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উচ্চমান সহকারী আব্দুল লতিফ ২০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান সুরুজ মাস্টারকে সভাপতি করে একটি কমিটি অনুমোদনের চেষ্টা করেন। পরে একই বিষয়ে দুটি পৃথক কমিটি জেলা কার্যালয়ে পাঠিয়ে বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয় বলেও অভিযোগ তাঁর।
রাজু বলেন, বিষয়টি জানতে আব্দুল লতিফের সঙ্গে প্রশাসনিক ভবনে দেখা করা হয়। সেখানে কিছুটা উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও কোনো ধরনের মারধরের ঘটনা ঘটেনি। সরকারি কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি।
তবে সব অভিযোগ নাকচ করে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উচ্চমান সহকারী আব্দুল লতিফ বলেন, তিনি কোনো ধরনের অনিয়ম বা ঘুষের সঙ্গে জড়িত নন। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বরং তাঁকেই হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে।
তিনি জানান, একই প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির জন্য দুটি পৃথক আবেদন জমা পড়ায় এবং উভয় আবেদনেই সংসদ সদস্যের সুপারিশ থাকায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে জটিলতা তৈরি হয়। এ কারণে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ মো. জুবায়ের বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পড়ুন: ১৪৪ ধারার মধ্যেই হবিগঞ্জে বিক্ষোভ করতে যাচ্ছেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা
আর/


