খেলাধুলা আর স্কুলে যাওয়ার বয়স। কিন্তু সাত বছরের ছোট্ট মাহির জীবন এখন অসহ্য যন্ত্রণা আর অনিশ্চয়তায় ঘেরা। আগুনে দগ্ধ হওয়ার পর থেকে সে স্বাভাবিকভাবে প্রস্রাব-পায়খানা করতে পারে না। চিকিৎসকদের মতে, অস্ত্রোপচারই তার সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার একমাত্র উপায়। তবে সেই চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন প্রায় তিন লাখ টাকা, যা দিনমজুর বাবার পক্ষে জোগাড় করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
মাহি সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার রতনকান্দি ইউনিয়নের খামারগাতী গ্রামের দিনমজুর কারিম হোসেনের সাত বছরের মেয়ে। পরিবারের সদস্যরা জানান, গত বছরের শীতকালে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে দাদার পকেট থেকে দিয়াশলাই নিয়ে খেলতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয় মাহি। মুহূর্তের মধ্যে তার পরনের পোশাকে আগুন ধরে যায় এবং শরীরের নিচের অংশ মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়।
পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে শুরুতেই উন্নত চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়নি। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেওয়ায় ক্ষত শুকিয়ে গেলেও পরে নতুন জটিলতা দেখা দেয়। পোড়া ক্ষতের কারণে ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে যায় মূত্রনালীর পথ। বর্তমানে প্রতিবার প্রস্রাব কিংবা পায়খানার সময় তীব্র ব্যথায় ছটফট করে ছোট্ট মাহি।
পরবর্তীতে তাকে ঢাকার একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা জানান, অস্ত্রোপচার ছাড়া তার সুস্থ হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজন প্রায় তিন লাখ টাকা।
মাহির বাবা কারিম হোসেন একজন দিনমজুর। দৈনিক আয়ে কোনোমতে সংসার চলে। অন্যদিকে মাহির মা মানসিকভাবে অসুস্থ। ফলে সন্তানের ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ বহন করা তাদের পক্ষে একেবারেই সম্ভব হচ্ছে না।
চিকিৎসার অভাবে দিন দিন বাড়ছে মাহির শারীরিক কষ্ট। যে বয়সে তার বই-খাতা হাতে স্কুলে যাওয়ার কথা, বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা করার কথা, সেই বয়সেই তাকে প্রতিনিয়ত লড়াই করতে হচ্ছে অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে।
মাহির পরিবার ও স্থানীয়রা সমাজের বিত্তবান, দানশীল ও মানবিক মানুষের কাছে সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন। তাদের আশা, সবার সামান্য সহযোগিতায় চিকিৎসার ব্যবস্থা হলে আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে ছোট্ট মাহি। একটি শিশুর মুখে হাসি ফিরিয়ে দিতে এবং তাকে নতুন জীবনের সুযোগ করে দিতে সমাজের সহৃদয় মানুষের সহযোগিতাই হতে পারে সবচেয়ে বড় আশার আলো।
পড়ুন:ফটিকছড়িতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কৃষকের মৃত্যু
ইমি/


