নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে পুলিশ পরিচয় দিয়ে এক ছাত্রলীগকর্মীর নেতৃত্বে চালানো চাঁদাবাজিতে বাধা দেওয়ায় বারদী ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সভাপতি মো. বিল্লাল মুন্সীর ওপর নৃশংস হামলা ও প্রাণনাশের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। প্রকাশ্যে একজন রাজনৈতিক নেতার ওপর এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। অনতিবিলম্বে মূল অভিযুক্ত পুলিশ পরিচধারী ছাত্রলীগকর্মী সাজ্জাদ হোসেন জুনায়েদসহ সকল সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ জুলাই ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে (মঙ্গলবার) সোনারগাঁ উপজেলার বারদী ইউনিয়নের শান্তির বাজার সিএনজি স্ট্যান্ডসংলগ্ন একটি দোকানে অবস্থান করছিলেন শ্রমিকদল নেতা মো. বিল্লাল মুন্সী। এ সময় নিজেকে পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে স্থানীয় চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ সাজ্জাদ হোসেন জুনায়েদ দলবদ্ধ হয়ে তাঁর কাছে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। বিল্লাল মুন্সী চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁর ওপর দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালানো হয়।
এ সময় অভিযুক্ত সাজ্জাদ হোসেন জুনায়েদ, মো. রাসেল হাম্বু ও মো. শাকিল সরকারসহ অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীরা তাঁকে কিল, ঘুষি, লাথি এবং লোহার রড ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক জখম করে। পরবর্তীতে তাঁকে যেকোনো সময় সুযোগে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সোনারগাঁ উপজেলার বারদীর চেঙ্গাকান্দি এলাকার আক্তার হোসেনের ছেলে সাজ্জাদ হোসেন জুনায়েদ ছাত্রলীগ করার সুবাদে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনীতে চাকরি নেন। এর পর থেকেই তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন। এলাকার কিছু চিহ্নিত মাদকসেবী ও চাঁদাবাজকে সঙ্গে নিয়ে তিনি একটি অপরাধ সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। পুলিশে চাকরির প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষকে মিথ্যা মামলা ও কারাবাসের ভয় দেখিয়ে নিয়মিত চাঁদাবাজি করতেন তিনি। গত ৫ আগস্টের পর কিছুদিন আত্মগোপনে থাকলেও বর্তমানে সে পুনরায় তার পুরোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুরু করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় অনৈতিক সুবিধা ও চাঁদা না দেওয়ায় স্থানীয় ইউনিয়ন শ্রমিকদল নেতা বিল্লাল মুন্সিকে তার নেতৃত্বে পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয়।
এই ন্যাক্কারজনক ও সন্ত্রাসী ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এলাকার প্রবীণ এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন এই চক্রটি মানুষের ওপর ছড়ি ঘুরিয়েছে। গায়ের জোরে জমি দখল, চাঁদাবাজি আর লুটপাটই ছিল তাদের পেশা। এখন পটপরিবর্তন হলেও এই সন্ত্রাসীদের রূপ বদলায়নি। প্রকাশ্য দিবালোকে একজন রাজনৈতিক নেতার ওপর এভাবে হামলা চালানো মানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে তামাশা করা। আমরা এদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী তীব্র সমালোচনা করে বলেন, এই চাঁদাবাজরা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। এদের অত্যাচারে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা আজ অতিষ্ঠ। শান্তির বাজারে সবার সামনে একজন বয়স্ক মানুষকে পিটিয়ে জখম করা হলো, অথচ প্রশাসন কেন এখনও কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে না? আমরা দ্রুত এই সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার দেখতে চাই।
আরেক সচেতন নাগরিক হতাশা প্রকাশ করে জানান, ক্ষমতার অপব্যবহার করে যারা এতদিন অপকর্ম চালিয়েছে, আজ তারাই পার পেয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। এই সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের কোনো ছাড় দেওয়া উচিত নয়। প্রশাসন যদি অবিলম্বে এদের গ্রেপ্তার না করে, তবে এলাকাবাসী কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে।
এবিষয়ে অভিযুক্ত জুনায়েদের মুঠোফোনে জানান, আমি চট্টগ্রাম পুলিশে আছি, ছুটিতে বাসায় গিয়ে জানতে পারি আমার ভাইয়ের ড্রেজার ভেঙ্গে ফেলেছে বিল্লাল মুন্সি তখন তার সাথে আমার বাজারে হাতাহাতি হয়ে এক পর্যায়ে আমরা চলে আসি। শামিম ওসমানের সাথে সখ্যতা থাকা কিংবা তার অনুসারী কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান ওইসময় উৎসুক জনতার মতো গিয়েছিলাম আমি ছাত্রলীগে ছিলাম না। একপর্যায়ে ভিডিও দেখানোর কথা বলে এড়িয়ে যান।
অবিলম্বে পুলিশ পরিচধারী ছাত্রলীগকর্মী সাজ্জাদ হোসেন জুনায়েদ, মো. রাসেল হাম্বু ও মো. শাকিল সরকারসহ এই ন্যাক্কারজনক হামলার সাথে জড়িত সকল সন্ত্রাসীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
পড়ুন: টেকনাফে রোহিঙ্গাবাহী নৌকাডুবির ঘটনায় ১৮ জন উদ্ধার, নিখোঁজ ১৩
আর/


