বিজ্ঞাপন

ইনফান্তিনোর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, ফিফা সভাপতির দৌড়ে কারা এগিয়ে?

২০২৬ বিশ্বকাপের পর থেকেই সমালোচনার মুখে রয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তাকে পদত্যাগ করা, নতুবা অপসারণের জন্য ভোটের মুখোমুখি হওয়ার হুমকি দিয়েছে উয়েফা। এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, ইনফান্তিনো যদি শেষ পর্যন্ত দায়িত্ব ছাড়েন, তবে তার উত্তরসূরি কে হতে পারেন? ২০২৭ সালের ফিফা সভাপতি নির্বাচন সামনে রেখে এরই মধ্যে কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম আলোচনায় এসেছে।

বিজ্ঞাপন

ম্যাটিয়াস গ্রাফস্ট্রোম (ফিফা সাধারণ সম্পাদক)

২০২৪ সালের মে মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পর ফিফার নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে ক্রমেই প্রভাবশালী হয়ে উঠেছেন ম্যাটিয়াস গ্রাফস্ট্রোম। বহুভাষাবিদ এই কর্মকর্তা ২০১৬ সালে ইনফান্তিনো ফিফা সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর তার চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিশ্বকাপে ব্যাপকভাবে দৃশ্যমান থাকা গ্রাফস্ট্রোমকে ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে দেখা হয়। তবে ফিফার পরবর্তী সভাপতি ইউরোপের বাইরের কেউ হওয়া উচিত—এমন একটি সাধারণ ধারণা থাকায় তা তার সম্ভাবনার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

ফিফার পরবর্তী সভাপতি নির্বাচন আগামী মার্চে মরক্কোয় অনুষ্ঠিতব্য সংস্থাটির ৭৭তম কংগ্রেসে হবে। প্রার্থীদের নাম জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৮ নভেম্বর।

নাসের আল-খেলাইফি (পিএসজি সভাপতি ও ইউরোপীয় ফুটবল ক্লাবসের চেয়ারম্যান)

২০২১ সালে ইউরোপীয় সুপার লিগের উদ্যোগ মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ভেস্তে যাওয়ার পর নাসের আল-খেলাইফি ইউরোপিয়ান ক্লাব অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন।

তার নেতৃত্বে সংগঠনটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘ইউরোপিয়ান ফুটবল ক্লাবস’। একই সঙ্গে সদস্য সংখ্যা বাড়িয়ে ৮০০-এর বেশি ক্লাবে উন্নীত করা হয়েছে। বড় ক্লাবগুলোর মধ্যে একমাত্র রিয়াল মাদ্রিদ এখনো এর বাইরে রয়েছে।

তাত্ত্বিকভাবে কাতারের এই ফুটবল সংগঠক ইনফান্তিনোর শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারতেন। তবে তিনি এই পদে যেতে আগ্রহী নন বলেই মনে করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে জানতে চাইলে আল-খেলাইফির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, ‘তিনি সত্যিই, সত্যিই, সত্যিই এই পদটি চান না।’

ভিক্টর মন্টালিয়ানি (কনকাকাফ সভাপতি)

ইনফান্তিনোর মতো ভিক্টর মন্টালিয়ানিও ২০১৬ সালে সুশাসনের সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন। কানাডা সকারের সাবেক সভাপতি মন্টালিয়ানি তিন দেশের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ও সফল আয়োজনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন।

ইংরেজির পাশাপাশি ফরাসি, ইতালীয় ও স্প্যানিশ ভাষায় সাবলীল এই সংগঠক ২০২৪ সালে কনকাকাফের বর্ধিত কোপা আমেরিকা আয়োজনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তবে বিবিসি স্পোর্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এটিকে নিয়মিত করার পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী মন্টালিয়ানি প্রতি দুই বছর পরপর বিশ্বকাপ আয়োজনের বিষয়ে আর্সেন ভেঙ্গারের প্রচেষ্টায় তৈরি জটিলতা দূর করেছিলেন। একই সঙ্গে ৬৪ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের ধারণাটিও তিনি সমর্থন করেননি।

শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা (এএফসি সভাপতি)

২০১৩ সালে প্রথম নির্বাচিত হওয়ার পর শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা ২০২৭ সাল পর্যন্ত চতুর্থ মেয়াদের জন্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

বাহরাইনের এই ফুটবল সংগঠক এশিয়ান কনফেডারেশনের অধীনে ‘চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এলিট’, ‘চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু’, ‘চ্যালেঞ্জ লিগ’ এবং ২০২৪-২৫ সালে চালু হওয়া ‘উইমেনস চ্যাম্পিয়ন্স লিগ’-এর মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করেছেন। এ ছাড়া এশিয়ান কাপের দলসংখ্যা ২৪টিতে উন্নীত করা হয়েছে।

ইনফান্তিনোর ফিফা পরিচালনার পদ্ধতির কঠোর সমালোচনায় সম্মতি জানিয়েছেন শেখ সালমান। তিনি এএফসির ৪৬ সদস্যের সমর্থন ধরে রেখেছেন, যাদের অনেকেই মনে করেন, ইনফান্তিনোর পরিকল্পনা থেকে পাওয়া অর্থ তাদের সামগ্রিক ফুটবল ব্যয়ের তুলনায় বড় অংকের।

পড়ুন: সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ : একই গ্রুপে ভারত-পাকিস্তান, ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশ

আর/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন