দীর্ঘদিন জেলা ভেটেরিনারি সার্জন না থাকায় জনবল সংকটে সিরাজগঞ্জ জেলা ভেটেরিনারি হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। খামারি ও পশুপালনকারীদের ভোগান্তি নিয়ে গত ২১ জুন নাগরিক টেলিভিশনে সংবাদ প্রচারের পর বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পরে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নির্দেশে অবশেষে নিজ কর্মস্থল সিরাজগঞ্জে ফিরেছেন জেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডাঃ মুহাম্মদ মোখলেছুর রহমান।
জানা গেছে, ডাঃ মুহাম্মদ মোখলেছুর রহমান ২০২২ সালের ২০ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জ জেলা ভেটেরিনারি সার্জন হিসেবে যোগদান করেন। তবে যোগদানের পর থেকেই তিনি ডেপুটেশনে গাজীপুরে কর্মরত ছিলেন। ফলে দীর্ঘদিন ধরে জেলা ভেটেরিনারি হাসপাতালের কার্যক্রম সীমিত জনবল দিয়ে পরিচালিত হয়ে আসছিল। প্রথম শ্রেণির এই হাসপাতালে উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও অ্যাটেনডেন্টদের মাধ্যমে অধিকাংশ চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগ ছিল।
এতে জেলার খামারি ও পশুপালনকারীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও রোগ নির্ণয় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন বলে অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্টরা। জেলা ভেটেরিনারি সার্জন না থাকায় আল্ট্রাসনোগ্রাম, এক্স-রে, বিভিন্ন রোগ নির্ণয় পরীক্ষা ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা পেতে ভোগান্তিতে পড়তে হতো খামারিদের। অনেক সময় রোগাক্রান্ত পশুর যথাযথ চিকিৎসা না পেয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখেও পড়তে হয়েছে তাদের।
হাসপাতালে জেলা ভেটেরিনারি সার্জন পদায়নের দাবিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার আবেদনও করা হয়। ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর ১৩১ নম্বর স্মারকে প্রথমবার এবং ২০২৫ সালের ৩০ জুলাই ১৬ নম্বর স্মারকে দ্বিতীয়বার আবেদন করে জেলা ভেটেরিনারি সার্জনের ডেপুটেশন বাতিল করে তাকে সিরাজগঞ্জে ফিরিয়ে আনা অথবা নতুন জেলা ভেটেরিনারি সার্জন পদায়নের দাবি জানানো হয়।
এরই মধ্যে ২১ জুন ২০২৬ নাগরিক টেলিভিশনে দীর্ঘদিন ডেপুটেশনে জেলা ভেটেরিনারি সার্জন, উপসহকারী ও অ্যাটেনডেন্ট দিয়েই চলছে সিরাজগঞ্জ পশু হাসপাতাল’ শিরোনামে সংবাদ প্রচার করা হয়। সংবাদ প্রচারের পর বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।
পরে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কার্যালয় থেকে ২৪ জুন ২০২৬ তারিখের ৩৩.০১.০০০০.১০১.১৯.৬৭৬(৩).২৫.১১৬৩ নম্বর স্মারকের মাধ্যমে ডাঃ মুহাম্মদ মোখলেছুর রহমানকে তার মূল কর্মস্থল সিরাজগঞ্জ জেলা ভেটেরিনারি হাসপাতালে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে ২৫ জুন ২০২৬ তারিখের অপরাহ্নে তিনি সিরাজগঞ্জ জেলা ভেটেরিনারি হাসপাতালে নিজ কর্মস্থলে যোগদান করেন।
দীর্ঘদিন পর জেলা ভেটেরিনারি সার্জন কর্মস্থলে ফিরে আসায় এখন খামারি ও পশুপালনকারীরা উন্নত চিকিৎসা, রোগ নির্ণয় পরীক্ষা ও বিশেষায়িত সেবা আরও সহজে পাবেন—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
পড়ুন: তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও অর্থনৈতিক করিডর বাস্তবায়নে আশাবাদী চীন: রাষ্ট্রদূত
আর/


