জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে গাজীপুরের কালিয়াকৈর বাসস্ট্যান্ডে উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে এক বিশাল গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
আয়োজকদের দাবি, সমাবেশে অর্ধলক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
বিকেল ৪টা থেকেই সফিপুর, চন্দ্রা, মৌচাক, বড়ইবাড়ি ও ফুলবাড়িয়াসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার শ্রমিক, ছাত্র ও সাধারণ মানুষ মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে যোগ দেন। নারী-পুরুষের ব্যাপক উপস্থিতিতে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকা মানুষে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
সমাবেশ পরিচালনা করেন কালিয়াকৈর পৌরসভার সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী দেওয়ান মো. জসিম উদ্দিন ও পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশিদ।
সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় বিএনপির শ্রমবিষয়ক সহ-সম্পাদক এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির খান।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা বিভাগ) কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল। সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও কালিয়াকৈর পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. মজিবুর রহমান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আ. ন. ম. খলিলুর রহমান ইব্রাহীম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক পারভেজ আহমেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ, আকতারউজ্জামান, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি দেওয়ান মোয়াজ্জেম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মো. রিয়াজ উদ্দিনসহ উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
বক্তব্যে সংসদ সদস্য মো. মজিবুর রহমান বলেন, “আজকের এই জনসমুদ্র প্রমাণ করে কালিয়াকৈরের মানুষ জেগে উঠেছে। জুলাই-আগস্টে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আমরা শপথ নিচ্ছি—কালিয়াকৈরকে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও ভূমিদখলমুক্ত করব। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সংগ্রাম চলবে। শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে দেব না।”
সভাপতির বক্তব্যে মো. হুমায়ুন কবির খান বলেন, “শ্রমিকরাই দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। দীর্ঘদিন তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। শ্রমিক-জনতার ঐক্যের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে।”
উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, “দীর্ঘ ১৫ বছর মামলা, হামলা ও গুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছি। কিন্তু আজকের এই জনসমাগম প্রমাণ করে বিএনপি জনগণের দল ছিল, আছে এবং থাকবে।”
প্রধান অতিথি কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল বলেন, “আবু সাঈদ, মুগ্ধসহ জুলাই-আগস্টের শহীদদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারের পতন হয়েছে। এখন জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। কোনো ষড়যন্ত্র বা প্রহসনের নির্বাচন জনগণ মেনে নেবে না।”
সমাবেশে অংশ নেওয়া গার্মেন্টস শ্রমিক রহিম মিয়া বলেন, “দীর্ঘদিন পর খোলামেলা পরিবেশে নিজেদের কথা বলতে পারছি। এটাই আমাদের বড় অর্জন।”
গৃহিণী ফাতেমা বেগম বলেন, “আমার ছেলেও জুলাই আন্দোলনে রাস্তায় ছিল। শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র আমরা রক্ষা করব।”
সমাবেশকে কেন্দ্র করে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয় এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
পড়ুন : নিষিদ্ধ ঘোষিত কৃষক লীগের বহিষ্কৃত সাবেক সভাপতি বেনাপোল ইমিগ্রেশনে আটক


