পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পিবিপ্রবি) যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে অদ্য ০৫ আগস্ট ২০২৬ খ্রি. বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জুলাই শহীদদের স্মৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন, আলোচনা সভা, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, রচনা প্রতিযোগিতা এবং দোয়া ও মোনাজাতসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সকালে পিরোজপুরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে অবস্থিত জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচির সূচনা হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ডক্টর মোহাম্মদ ছবিরুল ইসলাম হাওলাদার।
এর আগে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত ও গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে আলোচনা সভার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জীবন উৎসর্গকারী শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে গণঅভ্যুত্থানের ওপর চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ডক্টর মোহাম্মদ ছবিরুল ইসলাম হাওলাদার বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা তুলে ধরেন। তিনি ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা এবং মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে বলেন, যেকোনো অন্যায়, অনিয়ম ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে মানুষের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানই ইতিহাসে পরিবর্তন এনেছে।
এ সময় তিনি অনিয়ম, দুর্নীতি, বৈষম্য ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন ও দক্ষ মানবসম্পদ গঠনের মাধ্যমে পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে দক্ষিণাঞ্চলের শ্রেষ্ঠ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। একইসঙ্গে তিনি শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেম, নৈতিকতা ও পেশাগত উৎকর্ষ অর্জন করার মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে জুলাইযোদ্ধা মো. ইয়াসিন আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার দুঃসহ অভিজ্ঞতা, চিকিৎসাকালীন নানা প্রতিকূলতা এবং দীর্ঘ পুনর্বাসনের স্মৃতিচারণ করেন। একইসঙ্গে তিনি জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণ করে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে তরুণ প্রজন্মকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. আকতার হোসেনের সভাপতিত্বে এবং পরিসংখ্যান বিভাগের প্রভাষক রেহানা আক্তার তামীমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মোশাররফ হোসেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পরিসংখ্যান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. মুছা খান, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান ড. সোহাগ বর্মন, মনোবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান শারমিন ইসলাম নিপা ও সেকশন অফিসার নিগার সুলতানা।
শিক্ষার্থীদের পক্ষে গণিত বিভাগের নিপা মনি বানু, মনোবিজ্ঞান বিভাগের মনজুর মিসবাহ, পরিসংখ্যান বিভাগের আরিফ মন্ডল এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মীর এ কে সাজিদ বক্তব্য রাখেন। বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে বৈষম্য, সহিংসতা ও বিভেদমুক্ত শিক্ষাঙ্গন গড়ে তোলা এবং জ্ঞান-বিজ্ঞান, গবেষণা, নৈতিকতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের মাধ্যমে দেশ বিনির্মাণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আলোচনা সভা শেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে আয়োজিত রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। পরে ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে জীবন উৎসর্গকারী শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
দিনব্যাপী এ আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পড়ুন : কলমাকান্দায় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ৫ শতাধিক গাছের চারা রোপণ


