দেশের সর্ববৃহৎ ও প্রাচীন সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় ফিরে এসেছে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও কর্মচাঞ্চল্য। বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) নূর মোহাম্মদ শাহ সুফি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বদলে যেতে শুরু করেছে দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যায় জর্জরিত এই কারখানার সামগ্রিক চিত্র। বন্ধ হয়েছে যন্ত্রাংশ চুরি, গেট নিরাপত্তায় ফিরেছে কঠোর শৃঙ্খলা, আর উৎপাদন বেড়েছে প্রায় তিনগুণ।
স্থানীয় ও কারখানা সূত্রে জানা গেছে, দায়িত্ব নেওয়ার পরই কারখানার ভেতরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেন ডিএস নূর মোহাম্মদ শাহ সুফি। এতে কারখানা প্রাঙ্গণ থেকে রেলের মূল্যবান মালামাল ও খুচরা যন্ত্রাংশ চুরি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়। পাশাপাশি প্রধান ফটকের নিরাপত্তায় আনা হয়েছে শতভাগ শৃঙ্খলা।
একসময় পোশাক না পাওয়াসহ নানা কারণে শ্রমিকদের মাঝে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করলেও বর্তমানে তা দূর হয়েছে। কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে সময়মতো পোশাক পাওয়ায় শ্রমিকরা এখন নিয়মিত ও সানন্দ চিত্তে কাজে অংশ নিচ্ছেন।
উৎপাদন ও কোচ মেরামতের ক্ষেত্রেও এসেছে অভূতপূর্ব সাফল্য। আগে কারখানায় যেসব কোচ (বগি) মেরামত হতো, বর্তমানে তার চেয়ে প্রায় তিনগুণ বেশি কোচ আউট-টান বা সম্পূর্ণ মেরামত করে লাইনে চলাচলের উপযোগী করা হচ্ছে। বছরের পর বছর অকেজো হয়ে পড়ে থাকা বিপুল সংখ্যক কোচ সচল করে দ্রুত ট্রাফিক বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে, যা বর্তমানে দেশের বিভিন্ন রুটে সফলভাবে চলাচল করছে।
কারখানার সাধারণ শ্রমিক ও কর্মচারীরা জানান, প্রশাসনিক কঠোরতা এবং দক্ষ তদারকির কারণেই কারখানায় আজ উন্নয়নের জোয়ার বইছে। এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে আগামী দিনে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা দেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জাতীয় অর্থনীতিতে আরও বড় অবদান রাখতে সক্ষম হবে।
পড়ুন:বন্দরে ছুরিকাঘাতে যুবকের মৃত্যু, অভিযুক্ত পলাতক
ইমি/


