বিজ্ঞাপন

ডেভেলপারের বিরুদ্ধে চুক্তিভঙ্গ, অর্থ আদায় ও হয়রানির অভিযোগ!

চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকার একটি আবাসন প্রকল্পে ফ্ল্যাট পাওয়ার আশায় বছরের পর বছর অপেক্ষা করেছেন জমির মালিকরা। কিন্তু অভিযোগ, প্রতিশ্রুত সময়ে ফ্ল্যাট তো মেলেনিই, উল্টো চুক্তিভঙ্গ, দীর্ঘ বিলম্ব, অসম্পূর্ণ ভবন হস্তান্তর, মালিকানা-সংক্রান্ত কাগজপত্র আটকে রাখা, অবৈধভাবে অর্থ আদায়, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং আদালতের কোনো আদেশ ছাড়াই ফ্ল্যাটে তালা ঝুলিয়ে মালিকদের নিজস্ব সম্পত্তি ব্যবহারের অধিকার থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছে।

এসব অভিযোগ তুলে ধরে ভুক্তভোগী ভূমি মালিকরা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও আইনগত প্রতিকার চেয়ে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) চট্টগ্রাম কার্যালয়ে লিখিত আবেদন করেছেন।

অভিযোগে বলা হয়, ২০১১ সালে আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকার ২৭ নম্বর সড়কে ১০ কাঠা জমির ওপর আবাসন নির্মাণের জন্য বিল্ডকিং রিয়েল এস্টেট কোম্পানির সঙ্গে উন্নয়ন চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী ২০১৫ সালের মধ্যে ফ্ল্যাট হস্তান্তরের বাধ্যবাধকতা থাকলেও ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান সেই অঙ্গীকার রক্ষা করেনি।

অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘ সাত বছর পর ২০২২ সালে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়া হলেও অধিকাংশ ফ্ল্যাট তখনও বসবাসের ন্যূনতম উপযোগী ছিল না। বাধ্য হয়ে নিজেদের অর্থ খরচ করেই বাসযোগ্য করে তুলতে হয়েছে ফ্ল্যাটগুলো।

আবেদনে আরও বলা হয়েছে, ফ্ল্যাট হস্তান্তরের পরও মালিকানা-সংক্রান্ত দলিল, হস্তান্তরপত্র ও অনুমোদনের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র অনেক মালিকের কাছে আজও হস্তান্তর করা হয়নি। অথচ উন্নয়ন চুক্তিতে নির্ধারিত সময়ে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দিতে ব্যর্থ হলে প্রতিটি ফ্ল্যাটের জন্য প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার শর্ত ছিল বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।

মালিকদের একজন শাহনেওয়াজ চৌধুরীর অভিযোগ, ২০২২ সালে নিজের ফ্ল্যাট স্ত্রীকে হেবা করার পর ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী নুর মোহাম্মদ তার বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি ও একটি দেওয়ানি মামলা করেন।

তার দাবি, জমির দাগ নম্বর-সংক্রান্ত যে অসঙ্গতির কথা মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, সেটি মূলত ভূমি রেকর্ডের ত্রুটিজনিত। এ বিষয়ে খতিয়ান সংশোধনের আবেদন বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং মামলাগুলোও তদন্তাধীন।

নাগরিকের অনুসন্ধানে শাহনেওয়াজ চৌধুরীর বক্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য মিলেছে। প্লটটির লিজ, মালিকানা ও বিএস দাগ নম্বরের বিবরণ তুলে ধরে সিডিএ জানিয়েছে, দুই অংশের জমির ওপর যৌথভাবে ভবন নির্মাণের জন্য ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানকে আমমোক্তারনামা দেওয়া হয়েছিল।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বিচারাধীন বিষয়কে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হয়রানি করা হচ্ছে। গত ঈদুল আজহার সময় ভবনে এসে লিফট বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় এবং পরে ৬০ হাজার টাকা আদায় করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া আরও অর্থ দাবি করে সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ, আদালতের কোনো আদেশ ছাড়াই প্রায় এক বছর ধরে ভবনের দুটি ফ্ল্যাটে তালা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। ফলে প্রকৃত মালিকরা নিজেদের বৈধ সম্পত্তিতে প্রবেশ ও ব্যবহার করার অধিকার থেকেও বঞ্চিত রয়েছেন।

নাগরিকের অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, আগ্রাবাদ সার্কেল ভূমি অফিসে জমির মালিকানা ও নামজারি-সংক্রান্ত একটি মিস মামলা বর্তমানে শুনানির পর্যায়ে রয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে শুনানিতে উপস্থিত থাকার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিল্ডকিং রিয়েল এস্টেটের স্বত্বাধিকারী নুর মোহাম্মদ সব অভিযোগ অস্বীকার করেন।

অভিযোগকারীরা দ্রুত তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাদের বৈধ অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, বিষয়টি বর্তমানে পিবিআই তদন্ত করছে এবং তারা ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় রয়েছেন।

এ বিষয়ে পিবিআই মেট্রোর তদন্তকারী কর্মকর্তা আল আমিন বলেন, “বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।”
রিহ্যাব পরিচালক ও চট্টগ্রাম এর কো-চেয়ারম্যান আবদুল গাফফার মিয়াজী বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত আছেন। উভয় পক্ষ সম্মত হলে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধের সমাধান সম্ভব।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : প্রক্টরের অপসারণ সহ ৯ দফা দাবিতে উপাচার্যের কাছে জকসুর স্মারকলিপি

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন