এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ মিঠাপানির জলাভূমি হাকালুকি হাওর। দেশের প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্যের অন্যতম প্রধান আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত এই হাওর এখন অবৈধ জালের দখলে। বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকেই হাওরের বিভিন্ন বিল, জলাশয় ও মাছের অভয়াশ্রমসংলগ্ন এলাকায় নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে চলছে নির্বিচারে মাছ শিকার। এতে ডিমওয়ালা মাছ, রেণু ও পোনা মাছ নির্বিচারে নিধন হওয়ায় মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে দেশীয় মাছের প্রজনন ও জলজ বাস্তুতন্ত্র।
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার হাকালুকি হাওরের চৌলরকান্দি জলাসহ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ঘের জাল, ফাঁদ জাল, চায়না জাল ও কারেন্ট জাল দিয়ে প্রকাশ্যেই মাছ ধরা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে মাছের অভয়াশ্রমের আশপাশেও অবাধে জাল পেতে মাছ আহরণ করা হচ্ছে। ফলে প্রজনন মৌসুমেই ধ্বংস হচ্ছে দেশীয় মাছের প্রাকৃতিক বংশবিস্তার প্রক্রিয়া।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে একই চিত্র চললেও অবৈধ মাছ শিকারের বিরুদ্ধে কার্যকর অভিযান ও নিয়মিত তদারকি নেই। এতে অসাধু চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সচেতন মহলের প্রশ্ন, সংরক্ষিত এই হাওরে আইন প্রয়োগ ও নজরদারির দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলোর কার্যক্রম কতটা কার্যকর?
মৌলভীবাজার জেলা হাওর রক্ষা কমিটির সদস্য আব্দুল হাফিজ চৌধুরী বলেন, “হাকালুকি হাওরে অবৈধভাবে বিভিন্ন নিষিদ্ধ জাল দিয়ে মাছ শিকার করা হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে দেশীয় মাছের অস্তিত্ব মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। অবিলম্বে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।”
এ বিষয়ে বড়লেখা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মিসবাহ উদ্দিন আফজল বলেন, “অবৈধ মাছ শিকারের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। খুব শিগগিরই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
হাকালুকি হাওরের জীববৈচিত্র্য ও দেশীয় মৎস্যসম্পদ রক্ষায় অবৈধ জালের ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ, নিয়মিত অভিযান পরিচালনা এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

