বিজ্ঞাপন

শুক্রবার এলেই কবরস্থান ও মসজিদ পরিষ্কারে ছুটেন তরুনরা

আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের প্রত্যয়ে ব্যতিক্রমী এক স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ নিয়েছেন কুড়িগ্রামের একদল তরুণ। প্রতি শুক্রবার তালিকা অনুযায়ী একটি করে মসজিদ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করছেন তারা। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অর্থায়ন নয়, সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাশ্রমে পরিচালিত এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

‎প্রতি সপ্তাহের ছুটির দিনে হাতে ঝাড়ু, ব্রাশ, বালতি, মোপ ও অন্যান্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সরঞ্জাম নিয়ে নির্ধারিত মসজিদে হাজির হন এসব তরুণ। এরপর দলবদ্ধভাবে নামাজের কাতার, মেঝে, কার্পেট, জানালা, দরজা, মিহরাব, অজুখানা ও শৌচাগার পরিষ্কার করেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা পরিশ্রম করলেও এর বিনিময়ে তারা কোনো পারিশ্রমিক গ্রহণ করেন না। তাদের ভাষায়, আল্লাহর ঘর পরিচ্ছন্ন রাখার মধ্য দিয়েই তাঁরা সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি অর্জন করতে চান।

‎উদ্যোক্তারা জানান, পরিচ্ছন্নতা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। সেই শিক্ষা বাস্তবে ধারণ করতেই তারা এই কার্যক্রম শুরু করেছেন। শুরুতে কয়েকজন তরুণ একসঙ্গে কাজ শুরু করলেও ধীরে ধীরে আরও অনেকেই এতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। ভবিষ্যতে আরও বেশি তরুণকে সম্পৃক্ত করে জেলার বিভিন্ন এলাকার মসজিদে একই ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

‎তাদের মতে, মসজিদ শুধু ইবাদতের স্থান নয়, এটি সমাজের ঐক্য ও নৈতিকতারও কেন্দ্র। তাই মসজিদ পরিচ্ছন্ন রাখা প্রত্যেক মুসল্লির দায়িত্ব। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই তারা নিয়মিত এই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

‎স্থানীয় মুসল্লি ও এলাকাবাসী বলেন, তরুণদের এমন উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে। এতে একদিকে মসজিদের পরিবেশ আরও পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর হচ্ছে, অন্যদিকে তরুণদের মধ্যে স্বেচ্ছাসেবী মনোভাব, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে উঠছে। তারা মনে করেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের উদ্যোগ ছড়িয়ে পড়লে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

‎ধর্মীয় ও সামাজিক সচেতনতার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই উদ্যোগ ইতোমধ্যেই অনেকের কাছে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রতি শুক্রবার একটি করে মসজিদ পরিষ্কার করার এই কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে এবং নতুন প্রজন্মকে মানবিক ও সামাজিক কল্যাণমূলক কাজে উদ্বুদ্ধ করবে।

‎ইসলামিক তরুণ সৈনিক এর সংগঠক জুয়েল আহমেদ বলেন,টানা দেড় বছর ধরে গ্রাম শহরের মসজিদ কবরস্থান পরিষ্কার পরিছন্নতার কাজ করে আসছি।বিভিন্ন পেশার মানুষ এক হয়ে কাজ করছি।এ পর্যন্ত ৪৩ টি মসজিদে পরিষ্কার পরিছন্নতার কাজ করা হয়েছে আল্লাহু পাককে রাজি খুশি করার জন্য আমাদের এ কাজ আগামীতেও অব্যহত থাকবে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : ‘মব’ তৈরির সংস্কৃতি গণতন্ত্রকে দুর্বল করে: মির্জা ফখরুল

সা/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন