ঢাকার সাভারে পুলিশের অভিযানের সময় ছাদ থেকে পড়ে মনোয়ারুল হোসেন বকশী (২৯) নামে এক ছাত্রদল নেতার মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ১২ টার দিকে সাভারের বিপিএটিসি স্টাফ কোয়ার্টারের ৫ম তলা থেকে পরে ওই নেতার মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করেছেন সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম।
নিহত মনোয়ারুল হোসেন বকশী সাভারের বাংলাদেশ লোক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের গার্ড জাফরের ছেলে। সে সাভার থানা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ছিলেন।
সাভার থানার ওসি জানান, রংপুর জেলার পীরগাছা থানা থেকে প্রেমের সম্পর্কের জেরে শাহারিয়ার কবির নামে একটি ছেলে মিম নামের একটি মেয়েকে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় মেয়ের পরিবার পীরগাছা থানায় একটি নিখোঁজের জিডি করেন। ওই ঘটনায় পুলিশ তদন্তে নেমে জানতে পারেন নিখোঁজ মেয়েটিকে নিয়ে ওই ছেলে সাভারে তার নানা মোঃ জাফর আলীর বাসায় অবস্থান করছে। বৃহস্পতিবার রাত ১১ টার দিকে পীরগাছা থানা পুলিশ সাভার মডেল থানায় আসেন। পরে পীরগাছা থানা পুলিশ সাভার মডেল থানার পুলিশের আরো একটি টিম নিয়ে বিপিএটিসি স্টাফ কোয়ার্টারের তার নানা জাফর আলীর বাসায় অভিযানে যায়। সাভার থানা পুলিশের টিম ভবনের নিচে অবস্থান করছিলো এবং পীরগাছা থানা পুলিশের টিম ৫ তলা ভবনের চতুর্থ তলায় অবস্থিত জাফর আলীর বাসায় প্রবেশ করেন। তারা(পীরগাছা থানা পুলিশ) বাসায় অবস্থানরত পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলতে ছিলেন। এর মাঝে জাফর আলীর ছেলে মনোয়ারুল ছাদে চলে যান। এসময় পুলিশ ও তার পিছু নিয়ে ছাদে যায়। এরপর মনোয়ারুল পাঁচতলা ভবনের ছাদ থেকে নিচে পড়ে যায়। এ ঘটনায় পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মনোয়ারুলের প্রতিবেশী রাসেল মনি বলেন, রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিকট শব্দ শুনে বাইরে বের হয়ে তিনি ভবনের ছাদে একজন পুলিশ সদস্যকে দেখতে পান এবং নিচে মনোয়ারুলের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁর ভাষ্য, কয়েক মিনিটের মধ্যে ছাদ থেকে পুলিশ সদস্য নেমে একটি মাইক্রোবাসে ওঠেন। এরপর অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা ওই মাইক্রোবাসে করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ ইকবাল বলেন, মনোয়ারুল হোসেন বকশী সাভার থানা শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি। পুলিশের অভিযানের সময় ছাদ থেকে পরে গিয়ে সে মারা গেছে। তবে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে না নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত চলে গেছে।
পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ সেলিম আলী বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাঁরা জানতে পারেন, নিখোঁজ কিশোরী বিপিএটিসিতে অবস্থান করছেন। সে অনুযায়ী পীরগাছা থানার একটি টিমকে সাভার থানায় পাঠানো হয়। পরে সাভার থানার সহযোগিতায় পীরগাছা থানার টিম ওই বাসায় যান। বাসায় জাফর আলী ও তাঁর স্ত্রীকে ছাড়া আর কাউকে পাওয়া যায়নি। তাঁরা যখন বাসায় বসে কথা বলছিলেন, তখন নিচে শব্দ শুনে বাইরে এসে এক যুবককে পড়ে থাকতে দেখেন। তখন জাফর আলর জানান, ওই যুবক তাঁর ছেলে মনোয়ারুল। ওই বাসায় তরুনী মিমকে কিংবা শাহরিয়ার কবিরকে পাওয়া যায়নি। তারা আগেই বাসা থেকে পালিয়ে গেছে।
পড়ুন : বল আনতে গিয়ে টিনের চালে উঠে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট, মাদ্রাসা ছাত্রের মৃত্যু


