বিজ্ঞাপন

স্কুলছাত্রীকে পরপর লাথি, ভিডিও ভাইরাল; রংপুর থেকে অভিযুক্ত কিশোর আটক

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে স্কুলড্রেস পরা এক ছাত্রীকে প্রকাশ্যে উত্ত্যক্ত ও লাথি মারার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সাড়ে ১১ বছর বয়সী এক কিশোরকে রংপুর থেকে আটক করেছে পুলিশ।

এদিকে ভাইরাল ভিডিওটির ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে স্কুল থেকে টিসি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও সমালোচনা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থীকে টিসি দেওয়া কোনোভাবেই যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নয়।

তবে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে টিসি দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন সরকার। তিনি বলেন, দুই শিক্ষার্থী বিভিন্ন সময়ে স্কুল ফাঁকি দিয়ে বাইরে অবস্থান করত। এ বিষয়ে তাদের পরিবারকে লিখিতভাবে সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটলে টিসি দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও টিকটকে ওই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। পরে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি সোনারগাঁ থানাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর পুলিশ অভিযুক্ত কিশোরকে তার বাবা-মায়ের সহযোগিতায় শনিবার সকালে রংপুর থেকে আটক করে।

পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধ সংশোধন ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কিশোরটিকে কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, শীতলক্ষ্যা নদীর কাঁচপুর এলাকার ওয়াকওয়ে দিয়ে স্কুলড্রেস পরা দুই ছাত্রী হেঁটে যাচ্ছিল। এ সময় পেছন থেকে এক কিশোর তাদের একজনকে লাথি মারে। ওই ছাত্রী প্রতিবাদ করলে তাকে আবারও লাথি মারা হয়। ঘটনাটি পাশে থাকা কেউ মোবাইল ফোনে ধারণ করেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় এক মাস আগে কাঁচপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ের ওয়াকওয়ে এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। পরে বৃহস্পতিবার ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।

পুলিশের হাতে আটক কিশোর দিলশাদ হোসেন কাঁচপুরের রায়েরটেক এলাকার একটি বাসায় পরিবারের সঙ্গে ভাড়ায় থাকত। তার বাবা সাফিউল ইসলাম রিকশাচালক এবং মা দুলালী একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত বলে জানা গেছে।

এদিকে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, অপরাধের শিকার শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা ও পড়াশোনা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে যেন কোনোভাবেই শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হতে না হয়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন স্থানীয়রা।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : এটিইও-র পর এবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধেই সহকর্মীর অভিযোগ

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন