রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে পাসের হারে ছেলেদের ছাড়িয়ে চমক দেখিয়েছে বগুড়ার মেয়েরা। শুধু পাসের হারেই নয়, মোট উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যাতেও এগিয়ে রয়েছে তারা। জেলার সামগ্রিক ফলাফলেও সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের আট জেলার মধ্যে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে বগুড়া।
সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য জানা গেছে।
প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে এবার সামগ্রিক পাসের হার ৬৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এর মধ্যে বগুড়ায় পাসের হার ৭২ দশমিক ৬৪ শতাংশ, যা বোর্ডের আট জেলার মধ্যে সর্বোচ্চ। জেলা থেকে মোট ৩২ হাজার ১৯৯ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ২৩ হাজার ৩৮৯ জন। এছাড়া ৪ হাজার ৪৭৮ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে, যা বোর্ডের আট জেলার মধ্যে সর্বাধিক।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবার বগুড়ায় ১৫ হাজার ৬০ জন ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ১১ হাজার ৭৭৪ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। ফলে মেয়েদের পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৭৮ দশমিক ১৮ শতাংশ।
অন্যদিকে, ১৭ হাজার ১৩৯ জন ছাত্র পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ১১ হাজার ৬১৫ জন। তাদের পাসের হার ৬৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ।
সে হিসাবে পাসের হারে মেয়েরা ছেলেদের তুলনায় ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ এগিয়ে রয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, পরীক্ষার্থীর সংখ্যায় ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা ২ হাজার ৭৯ জন কম হলেও উত্তীর্ণের সংখ্যায় মেয়েরা ১৫৯ জন বেশি।
বগুড়া জিলা স্কুলের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সাদ্দাম সাকিব বলেন, “আমার এই ফলাফলের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান আমার মায়ের। তিনি সবসময় মানসিকভাবে এবং পড়াশোনার ক্ষেত্রে আমাকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছেন। শিক্ষকরাও আন্তরিকভাবে পাশে ছিলেন। তাঁদের সহযোগিতা ছাড়া এত ভালো ফল করা সম্ভব হতো না। আমাদের স্কুল থেকেও অনেকেই ভালো ফল করেছে। তবে গত বছরের তুলনায় এবার সামগ্রিক ফল কিছুটা কম হয়েছে।”
একই বিদ্যালয়ের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী তানভীর বিন হারুন বলেন, “আমার ব্যক্তিগত ফলাফলে আমি সন্তুষ্ট। বাবা-মা ও বিদ্যালয়ের মুখ উজ্জ্বল করতে পেরে ভালো লাগছে। ভবিষ্যতে আরও ভালো কাজের মাধ্যমে পরিবার ও বিদ্যালয়ের সম্মান বাড়াতে চাই।”
বগুড়া সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান আকন্দ বলেন, শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম, অভিভাবকদের সহযোগিতা এবং শিক্ষকদের নিরলস প্রচেষ্টার ফলেই এ সাফল্য এসেছে।
তিনি আরও বলেন, “প্রতিষ্ঠান থেকে ২১৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ২১৬ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। মাত্র দুজন শিক্ষার্থী গণিত বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে। এ বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে ১৮৪ জন জিপিএ-৫, ৩০ জন এ এবং দুজন এ-মাইনাস গ্রেড পেয়েছে।”
বিভাগভিত্তিক ফলাফলে বিজ্ঞান বিভাগে ২১১ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৭৯ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। মানবিক বিভাগের তিনজনই জিপিএ-৫ পেয়েছে। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের চারজনের মধ্যে দুজন জিপিএ-৫ এবং দুজন এ গ্রেড অর্জন করেছে।
বগুড়া জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রমজান আলী আকন্দ বলেন, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই এ সাফল্য এসেছে। এবার মেয়েরা পাসের হারে এগিয়ে রয়েছে, যা অত্যন্ত ইতিবাচক। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের আট জেলার মধ্যে বগুড়া প্রথম হয়েছে। আগামীতে আমাদের লক্ষ্য দেশসেরা হওয়া। যারা ভালো ফল করেছে এবং যারা প্রত্যাশিত ফল করতে পারেনি, সবার জন্য শুভকামনা রইল।
পড়ুন:সিলেটে সড়কে আবারও প্রাণহানী
ইমি/


