টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে তরফপুর দাখিল মাদ্রাসার ভোকেশনাল শাখায় এবারের দাখিল (এসএসসি ভোকেশনাল সমমান) পরীক্ষার ফলাফলে চরম বিপর্যয় ঘটেছে।আজ সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত ফলাফলে এ শাখা থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া একজন শিক্ষার্থীও কৃতকার্য হতে পারেনি। ফলে প্রতিষ্ঠানটির ভোকেশনাল শাখায় এবার শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে।
ফল প্রকাশের পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভোকেশনাল শাখা থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই পাস না করায় প্রশ্ন উঠেছে—শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতা, ব্যবহারিক শিক্ষা, একাডেমিক তদারকি ও সামগ্রিক শিক্ষা কার্যক্রমের বাস্তব চিত্র কেমন?
অভিভাবকদের অভিযোগ, বছরের পর বছর সন্তানদের পেছনে সময় ও অর্থ ব্যয় করার পর এমন ফলাফল অত্যন্ত হতাশাজনক। তাদের দাবি, একটি শাখার পরীক্ষার্থীদের শতভাগ অকৃতকার্যের বিষয়টি শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যর্থতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর পেছনে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা একাডেমিক ঘাটতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানে শিক্ষক উপস্থিতি, নিয়মিত ক্লাস, পাঠদানের মান, ব্যবহারিক শিক্ষার সুযোগ, শিক্ষক সংকট, অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা ও মূল্যায়ন ব্যবস্থা এবং প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক তদারকিসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা জরুরি।
একজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে এখানে পড়াশোনা করিয়েছি। কিন্তু পরীক্ষায় একজনও পাস না করায় আমরা হতাশ। কেন এমন ফল হলো, তা তদন্ত করে দেখা দরকার।”
এদিকে, তরফপুর দাখিল মাদ্রাসার ভোকেশনাল শাখায় শতভাগ অকৃতকার্যের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার পরিবেশ, পাঠদানের মান ও একাডেমিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে শিক্ষার্থীদের এমন ফলাফলের সুনির্দিষ্ট কারণ চিহ্নিত করতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে এমন ফলাফলের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
একজন শিক্ষার্থীও পাস না করার মতো ফলাফল কি শুধুই শিক্ষার্থীদের ব্যর্থতা, নাকি এর পেছনে রয়েছে শিক্ষা ব্যবস্থাপনার বড় কোনো ঘাটতি—এ প্রশ্নের উত্তর এখন খুঁজছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়রা।
পড়ুন : চাটমোহরে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ভয়াবহ ফল বিপর্যয়


