বিজ্ঞাপন

‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’কে গুরুত্ব দিচ্ছে না ইরান

সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’কে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে না ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই বলেছেন, চুক্তিটি ইরানকে লক্ষ্য করে করা হয়েছে—এমন আশঙ্কার কোনো কারণ তারা দেখছেন না।

বিজ্ঞাপন

গত শুক্রবার (৭ আগস্ট) পবিত্র নগরী মক্কায় সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।

চুক্তি নিয়ে সোমবার (১০ আগস্ট) বাঘেই বলেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আঞ্চলিক দেশগুলোর দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন ধরনের আঞ্চলিক কৌশলের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তার মতে, এর মাধ্যমে বাইরের শক্তির ওপর নির্ভরশীলতার বদলে নিজেদের সক্ষমতার ওপর বেশি নির্ভর করার প্রবণতা স্পষ্ট হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘এই অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক বাস্তবতার ভিত্তিতে তৈরি, সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে এবং শত্রু ও হুমকিকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করে—এমন যেকোনো পরিকল্পনা নিরাপত্তা জোরদার করতে সহায়ক হতে পারে।’

তবে বিভিন্ন বিশ্লেষকের মতে, তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের নতুন এই জোটের প্রধান লক্ষ্য হতে পারে ইরানকে মোকাবিলা করা। তিন দেশেই প্রধানত সুন্নি মুসলিম জনগোষ্ঠীর বসবাস। যদিও সৌদি আরবের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনাপূর্ণ, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে তেহরানের সম্পর্ক তুলনামূলকভাবে ভালো।

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দীর্ঘ সংঘাতের মধ্যে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। ইরানের দাবি, দেশটির ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার জবাবে তারা হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ আরোপ করেছে।

এদিকে সৌদি আরবের ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পালটা হামলা চালিয়েছে ইরান। এর পাশাপাশি সৌদি আরবের সঙ্গে দক্ষিণের প্রতিবেশী ইয়েমেনের হুথি-নিয়ন্ত্রিত প্রশাসনেরও নতুন করে সংঘাত শুরু হয়েছে।

সৌদি বিমান হামলার জবাবে হুথিরা রিয়াদের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে। সর্বশেষ রোববার ভোরে জিজান প্রদেশে ড্রোন হামলার পর সৌদি আরামকোর একটি শোধনাগারে ব্যাপক আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

অন্যদিকে, সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ড এবং লিবিয়াসহ বিভিন্ন সংঘাতে বিপরীত পক্ষকে সমর্থন করা নিয়ে একসময় তুরস্ক ও সৌদি আরবের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে।

পাকিস্তানও দীর্ঘদিন ধরে সৌদি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সহযোগী হিসেবে রয়েছে। একই সঙ্গে ইসলামাবাদ ইরানসহ অন্যান্য মুসলিম-প্রধান দেশের সঙ্গেও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করে আসছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

পড়ুন: কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১৩২

আর/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন