বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আচরণবিধিতে যা আছে

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আচরণবিধি চূড়ান্ত করা হয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও পোস্টার ব্যবহারের সুযোগ থাকছে না। তবে ব্যানার, ফেস্টুন, হ্যান্ডবিল ও বিলবোর্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আকার নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (১০ আগস্ট) ভেটিংয়ের জন্য আচরণবিধিগুলো আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

দীর্ঘ এক দশক দলীয়ভাবে নির্বাচন হওয়ার পর এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নির্দলীয় প্রতীকে ভোট হবে। ২০১৬ সালের আচরণবিধি বাতিল করে স্থানীয় সরকারের সব স্তরের জন্য নতুন করে নির্বাচন আচরণবিধি প্রণয়ন করা হচ্ছে।

আচরণবিধিতে যা থাকছে

পোস্টারবিহীন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ব্যানার, লিফলেট ও ফেস্টুনের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।

সরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদের সংজ্ঞার আওতায় মেয়রসহ বিভিন্ন দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সিটি করপোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা, জেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রচারণায় অংশ নেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

ডিজিটাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের সুযোগ রাখা হলেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এর অপব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার ব্যয়ও নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাবে দেখাতে হবে।

আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জরিমানার পরিমাণ বাড়িয়ে সবক্ষেত্রে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে।

মাইকে প্রচারের সময় দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সময় ক্যারাভান বা ভ্রাম্যমাণ বাহনেও প্রচারের সুযোগ রাখা হয়েছে।

ভোটের সময় নির্বাচন পরিচালনার কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের জন্য সার্কিট হাউস, রেস্ট হাউস ও ডাকবাংলো ব্যবহারে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টিও আচরণবিধিতে যুক্ত করা হয়েছে।

প্রথমবার স্থানীয় নির্বাচনে বিলবোর্ড

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ব্যানার, লিফলেট ও ফেস্টুনের পাশাপাশি এবার প্রথমবারের মতো বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ থাকছে। এসব প্রচারসামগ্রী সাদাকালো রঙের হতে হবে। পোস্টার ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা থাকছে।

ব্যানারের সর্বোচ্চ আকার হবে ১০ ফুট বাই ৪ ফুট। লিফলেট ও হ্যান্ডবিল হবে এ-ফোর সাইজের, অর্থাৎ ৮ দশমিক ২৭ ইঞ্চি বাই ১১ দশমিক ৬৯ ইঞ্চি। ফেস্টুনের আকার হবে ১৮ ইঞ্চি বাই ২৪ ইঞ্চি। বিলবোর্ডের সর্বোচ্চ আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬ ফুট বাই ৯ ফুট।

প্রতীকের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা কোনোভাবেই ৬ ফুটের বেশি হতে পারবে না। প্রচারণায় জীবন্ত প্রাণী ব্যবহার করা যাবে না।

ফেস্টুন ও হ্যান্ডবিলে মুদ্রণের তারিখবিহীন, পলিথিনের আবরণ ও পিভিসি ব্যবহার করা যাবে না। প্রচারসামগ্রীতে প্রার্থীর নিজের ছবি ও প্রতীক ছাড়া অন্য কিছু রাখা যাবে না।

ইউপি নির্বাচনে নতুন নিয়ম

২০১৬ সালের আচরণবিধি বাদ দিয়ে এবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য নতুন আচরণবিধি তৈরি করা হচ্ছে।

প্রচারণায় অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারি অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের তালিকায় মেয়রের পাশাপাশি মেয়রের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। চেয়ারম্যান, মেয়র, প্রশাসক বা স্থানীয় সরকার পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার ব্যয়ও নির্বাচনী ব্যয়সীমার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে।

মাইকের ব্যবহার আগের মতো ছয় ঘণ্টার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। তবে এবার দুপুর ১২টা থেকে শুরু করে সন্ধ্যার আগেই মাইক ব্যবহার শেষ করতে হবে। দুপুর ১২টার আগে ও সূর্যাস্তের পর মাইক বা শব্দবর্ধক যন্ত্র ব্যবহার করে প্রচারণা চালানো যাবে না।

আগে বিলবোর্ড ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকলেও এবার প্রতি ওয়ার্ডে একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রচারণায় একটির বেশি মাইক্রোফোন ব্যবহার করা যাবে না।

আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ডের পাশাপাশি জরিমানার পরিমাণ ১০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে। এছাড়া এবার প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতার বিধানও আচরণবিধিতে যুক্ত করা হয়েছে।

উপজেলায় বিলবোর্ড ও ক্যাম্পের নিয়ম

উপজেলা নির্বাচনে ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডের সর্বোচ্চ আকার ১৬ ফুট বাই ৯ ফুট রাখা হয়েছে। ইউনিয়নপ্রতি একটি এবং পৌরসভার প্রতি ওয়ার্ডে একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে। পুরো উপজেলায় সর্বোচ্চ ২০টি বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।

নির্বাচনী ক্যাম্প স্থাপনের ক্ষেত্রেও সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। উপজেলা ভোটে কেন্দ্রীয়ভাবে একটি, প্রতি ইউনিয়নে একটি এবং পৌরসভা এলাকায় প্রতি তিন ওয়ার্ডে একটি করে ক্যাম্প স্থাপন করা যাবে।

আগের নিয়মে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মিলিয়ে সর্বোচ্চ পাঁচটি নির্বাচনী ক্যাম্প স্থাপন করতে পারতেন।

পৌরসভায় নতুন নিয়ম

পৌরসভা নির্বাচনে প্রতি ওয়ার্ডে একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে। মাইক, ক্যারাভান বা ভ্রাম্যমাণ বাহনের মাধ্যমে দুপুর ১২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত প্রচারণা চালানোর সুযোগ থাকবে।

জেলা পরিষদে বিলবোর্ড, মাইক বন্ধ

জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতি থানা বা উপজেলায় একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন প্রার্থী। তবে জেলা পরিষদ নির্বাচনে মাইকের ব্যবহার বন্ধ রাখা হয়েছে।

সিটি করপোরেশনে বিলবোর্ডের সীমা

সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রতি ওয়ার্ডে সর্বোচ্চ একটি বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন প্রার্থী। মেয়র প্রার্থীর নির্বাচনী ক্যাম্প আগের মতোই প্রতি থানায় একটি করে থাকতে পারবে।

আইন সংশোধনের মাধ্যমে ২০১৫ সালে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে ভোটের বিধান চালু করা হয়। সেই অনুযায়ী আচরণবিধিও প্রণয়ন করা হয়েছিল।

ওই ব্যবস্থায় ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান, উপজেলায় চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান, পৌরসভায় মেয়র এবং সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হয়।

অন্যদিকে ইউপি সদস্য, উপজেলায় মহিলা সদস্য, পৌরসভার কাউন্সিলর, সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর এবং জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে নির্বাচন হয়েছে নির্দলীয়ভাবে।

পড়ুন: গুপ্তহত্যার হুমকি, তুরস্ক থেকে গোপন ফ্লাইটে ব্রিটেনে যান ট্রাম্প

আর/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন