চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার দাঁতমারা ইউনিয়নের শান্তির হাট বাজারের উত্তর পাশে মহিলা মাদ্রাসার পেছন থেকে বিদ্যুতের একটি ট্রান্সফরমার চুরি করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। এতে মহিলা মাদ্রাসাসহ আশপাশের প্রায় ২৫টি পরিবার বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সোমবার দিবাগত রাতের কোনো একসময় বিদ্যুতের খুঁটি থেকে ট্রান্সফরমারটি খুলে নিয়ে যায় সংঘবদ্ধ চোরচক্র। পরে রাত আনুমানিক ২টার দিকে ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। সকালে বিষয়টি বুঝতে পেরে স্থানীয়রা বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে অভিযোগ করেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ট্রান্সফরমার চুরির পর বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থলে লোক পাঠানো হলেও দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বরং নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপনের জন্য তাদের কাছ থেকে এক লাখ টাকা চাওয়া হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, গত বছরও একই এলাকায় একটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছিল। সে সময় ট্রান্সফরমারের অর্ধেক মূল্য হিসেবে ৩৫ হাজার টাকা দিয়ে নতুন ট্রান্সফরমার নিতে হয়েছিল বলে দাবি তাদের। এবারও চুরির পর পুরো এক লাখ টাকা দিয়ে ট্রান্সফরমার কিনে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয়রা বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগের নজরদারি ও নিরাপত্তার ঘাটতির কারণে যদি বারবার ট্রান্সফরমার চুরি হয়, তাহলে এর দায় সাধারণ গ্রাহকদের ওপর চাপানো কতটা যৌক্তিক—এ প্রশ্নের জবাব দিতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। তাদের অভিযোগ, চোরচক্র বারবার একই ধরনের ঘটনা ঘটালেও তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, বারবার ট্রান্সফরমার চুরি হবে, আর প্রতিবারই গ্রাহকদের টাকা দিয়ে নতুন ট্রান্সফরমার কিনতে হবে—এ দায় কার?
তারা দ্রুত চুরি যাওয়া ট্রান্সফরমারের পরিবর্তে নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপন করে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার পাশাপাশি ঘটনার তদন্ত করে চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর অধীনে ফটিকছড়ির দাঁতমারা সাব-জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার বলেন, “এলাকাবাসী এ বিষয়ে অভিযোগ নিয়ে আমার অফিসে এসেছিল। এরপর ঘটনাস্থলে লোক পাঠিয়েছি।”
তবে নতুন ট্রান্সফরমারের জন্য এক লাখ টাকা চাওয়ার বিষয়ে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে পরে ওই কর্মকর্তার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এদিকে, ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, শুধু নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপন করলেই সমস্যার সমাধান হবে না; একই সঙ্গে ট্রান্সফরমার চুরির নেপথ্যে থাকা চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা করছেন তারা।
পড়ুন : কোম্পানি আইনে চালু হচ্ছে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল
সা/


