বিজ্ঞাপন

সবকিছু রাষ্ট্র করে দেবে-এ মানসিকতা বদলাতে হবে: নেত্রকোনার ডিসি

নাগরিকদের মাঝে সামাজিক দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি, সমাজের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব তৈরি এবং স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে নতুন প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করতে নেত্রকোনায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে চালু করা হয়েছে ‘ডেপুটি কমিশনার’স সোশ্যাল সার্ভিসেস অ্যাওয়ার্ড’।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে এই অ্যাওয়ার্ডের আনুষ্ঠানিক প্রবর্তন ও সমাজসেবামূলক কাজে বিশেষ অবদান রাখা স্কাউট সদস্যদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার মুশফিকুর রহমান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুনমুন জাহান লিজা, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর কবির আহম্মদ এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহিদুল আজম। এছাড়াও জেলা প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তা, স্কাউট নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, “সুস্থ সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে সামাজিক সেবা (সোশ্যাল সার্ভিস) বিশাল মানবিক সম্পদ। বর্তমানে সমাজে স্বেচ্ছাসেবার সংস্কৃতি অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। নাগরিকদের মধ্যে এমন প্রবণতা তৈরি হয়েছে যে- সবকিছুই রাষ্ট্র, সরকার কিংবা পৌরসভা করে দেবে। অথচ নাগরিক হিসেবে সমাজের প্রতি আমাদের প্রত্যেকেরই নিজস্ব কিছু দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা রয়েছে।”

তিনি বাস্তব অভিজ্ঞতার উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, “ভারী বৃষ্টির সময় ম্যানহোলের ঢাকনা খুলে দিলে সহজেই পানি নিষ্কাশন হয়ে যায়, অথচ নাগরিক হিসেবে আমরা অনেকেই উদ্যোগ নিয়ে তা করি না। তেমনি রাস্তায় ইট বা পাথর পড়ে থাকলে শত শত মানুষ তা পাশ কাটিয়ে যান, যার ফলে বড় ধরনের যানজট তৈরি হয়। সামান্য দায়িত্ববোধ থেকে কেউ যদি পাথরটি সরিয়ে দেন, তবে মুহূর্তেই জনদুর্ভোগ লাঘব হতে পারে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “স্কাউট সদস্যরা নিয়মিতভাবে সমাজের নানা সেবামূলক কাজে নিঃস্বার্থভাবে যুক্ত থাকে। প্রাথমিক পর্যায়ে তাদের ট্র্যাকিং রেকর্ড ও মাঠপর্যায়ের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই অ্যাওয়ার্ডের সূচনা করা হলো। পর্যায়ক্রমে সাধারণ মানুষ ও যুবসমাজকেও এই অ্যাওয়ার্ডের আওতায় আনা হবে। যাতে করে প্রতিটি নাগরিকের মধ্যে সমাজের কল্যাণে কাজ করার এবং ‘গুড প্র্যাকটিস’ গড়ে তোলার মানসিকতা তৈরি হয়।”

আলোচনা সভা শেষে সমাজসেবামূলক কার্যক্রমে সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জন্য স্কাউট সদস্যদের হাতে ‘ডেপুটি কমিশনার’স সোশ্যাল সার্ভিসেস অ্যাওয়ার্ড’ এর সনদপত্র তুলে দেন জেলা প্রশাসক ও উপস্থিত অতিথিবৃন্দ।

উপস্থিত কর্মকর্তাগণ জেলা প্রশাসনের সময়োপযোগী ও ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং আশা প্রকাশ করেন, এর মাধ্যমে জেলার তরুণ প্রজন্ম সমাজ বিনির্মাণে আরও বেশি স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমে উদ্বুদ্ধ হবে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : গুপ্তহত্যার হুমকি, তুরস্ক থেকে গোপন ফ্লাইটে ব্রিটেনে যান ট্রাম্প

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন