বিজ্ঞাপন

কালিয়াকৈরে শারীরিক পরিবর্তন হওয়া সেই কাবির এসএসসিতে পেল জিপিএ ৪.৫৬

শারীরিক পরিবর্তন ও নানা সামাজিক কৌতূহল পেছনে ফেলে এসএসসি পরীক্ষায় সাফল্য অর্জন করেছে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার আব্দুর রহমান কাবির দেওয়ান।

বিজ্ঞাপন

 ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে সে জিপিএ ৪.৫৬ পেয়ে ‘এ’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে।

কাবির মৌচাক ইউনিয়নের কামরাঙ্গীচালা এলাকার বাসিন্দা। জন্মের সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নথিতে তার নাম ছিল কেয়া আক্তার।

পরবর্তীতে শারীরিক পরিবর্তন দেখা দেওয়ার পর পরিবারের সিদ্ধান্তে তার নাম রাখা হয় আব্দুর রহমান কাবির দেওয়ান।

কাবিরের মা কণিকা ইসলাম জানান, ২০২৫ সালের শেষের দিকে তার শরীরে ধীরে ধীরে বিভিন্ন পরিবর্তন দেখা দেয়। কণ্ঠস্বর ভারী হওয়াসহ শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করার পর চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া হয়, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়।

কাবির মৌচাকের ধানসিঁড়ি পাবলিক স্কুলের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। আগের নামেই সে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। ১১ আগস্ট ফল প্রকাশের পর জিপিএ ৪.৫৬ পাওয়ার বিষয়টি জানা যায়।

কাবির বলেন, “আমি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাই। ভবিষ্যতে ভালো চাকরি করে পরিবার ও দেশের জন্য কাজ করতে চাই।”

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম বলেন, “কাবির একজন সাহসী ও মেধাবী শিক্ষার্থী। সে ভালো ফল করেছে। আশা করি, ভবিষ্যতেও ভালো করবে।”

কালিয়াকৈর পৌরসভার মেয়র প্রার্থী দেওয়ান জসিম উদ্দিন বলেন, “কাবিরের সাফল্য প্রশংসনীয়। তার মেধা ও ভবিষ্যৎকে গুরুত্ব দিয়ে সবাইকে সহমর্মী আচরণ করতে হবে। উচ্চশিক্ষার পথ যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, সেজন্য সমাজের সহযোগিতা প্রয়োজন।”

কালিয়াকৈর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, “কাবির আমাদের সমাজের জন্য অনুপ্রেরণা। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে গিয়ে সে ভালো ফল করেছে। সমাজের মানুষের উচিত তাকে কৌতূহলের চোখে না দেখে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া।”

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শওকত আকবর আলী খান বলেন, “মেধার কাছে পরিচয় বড় নয়। কাবির তার মেধা দিয়ে সেটি প্রমাণ করেছে। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এইচ এম ফখরুল হুসাইন বলেন, “শারীরিক পরিবর্তন চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিষয়। এর মধ্যেও কাবির ভালো ফল করেছে। তাকে হয়রানি,  সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ফল প্রকাশের পর কাবিরকে দেখতে বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ তার বাড়িতে আসছেন। এতে পরিবারের সদস্যরা কিছুটা বিব্রত হয়ে পড়েছেন। তারা কাবিরের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

পরিবারের প্রত্যাশা, সামাজিক কৌতূহল নয়—কাবিরের মেধা ও সাফল্যই হোক তার প্রধান পরিচয়।

পড়ুন : সাগরে সীমানা ঘেঁষে গ্যাস তুলছে মিয়ানমার, বাংলাদেশের নেই কোন উদ্যোগ

সা/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন